সিলেটে সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হতে লড়াইয়ে যারা

সিলেটে সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হতে লড়াইয়ে যারা

সিলেটে সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হতে লড়াইয়ে যারা

গত সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে অনেক সমীকরণ পাল্টে দিয়েছিল বিএনপি। চমক এসেছিল কয়েকটি আসনে। জয়ও পেয়েছে। এখন হিসাব সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি নিয়ে। তবে হিসাব গতানুগতিক না-ও হতে পারে। নানা প্রেডিকশন কাজ করছে। এমপি হতে চাইছেন মাঠের নেত্রীরা। পারিবারিক ত্যাগের প্রতিদানও চান অনেকে। আবার কেউ কেউ আছেন যোগ্যতার বিবেচনার প্রার্থী। তবে প্রার্থীরা চাচ্ছেন দলের মনোনয়ন। এর বাইরে তাদের কোনো হিসাব নেই। সবাই দলের সিদ্ধান্তে অনড় থাকবেন বলে জানিয়েছেন। যারা দলের গ্রিন সিগন্যাল পাবেন তারাই নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।

সিলেটের চার জেলায় সংসদীয় আসন দুটি। দু’জন পাবেন মনোনয়ন। কিন্তু এ দুই আসনের বিপরীতে বিএনপি’র প্রার্থী এক ডজনের বেশি। তারা ইতিমধ্যে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দিচ্ছেন। দলের মনোনয়নের জন্য তারা চালাচ্ছেন জোর লবিং। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা জানিয়েছেন- সিলেট বিভাগ থেকে যারা প্রার্থী হতে চান তারা ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। গতকাল বিকাল পর্যন্ত বেশির ভাগ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ নিয়ে দলের তরফ থেকে পরবর্তী কার্যক্রমে ডাকা হলে তারা অংশ নেবেন। তবে দলীয় পত্র ছাড়ার আগে কেউ কেউ নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। দলের সিদ্ধান্ত হওয়ার পর তারা মনোনয়নপত্র তুলে নেবেন, গ্রিন সিগন্যাল পেলে জমা দেবেন বলেও জানিয়েছেন।

বিএনপি’র একাধিক নেতা জানিয়েছেন-বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক এমপি শাম্মী আক্তার, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি রেজিনা নাসের রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব (প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা) আবুল হারিছ চৌধুরীর মেয়ে ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরী, যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সাবেক সভাপতি কমর উদ্দিনের মেয়ে ছাবিনা খান পপি, সিলেট-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন লেচু মিয়ার মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র এডভোকেট রোকশানা বেগম শাহনাজ, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সামিয়া বেগম চৌধুরী, সিলেট জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনারের বোন তাহসিন শারমিন তামান্না, সিলেট মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ফাহিমা আহাদ কুমকুম, সুনামগঞ্জের নিহার সুলতানা তিথী, বীথিকা বিনতে হোসাইন, এডভোকেট তহমীনা আকতার হাসেমী, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সদস্য এডভোকেট মুন্নী খানম (হাদিয়া চৌধুরী মুন্নি) ও মুনমুন তালুকদার প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন। এর মধ্যে উত্তরাধিকার সূত্রে আলোচনায় রয়েছেন হারিছ চৌধুরীর মেয়ে ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরী, কমর উদ্দিনের মেয়ে ছাবিনা খান পপি, সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন লেচু মিয়ার মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেন। তাদের ঘিরে তুমুল আলোচনা চলছে সিলেটে। তিনজনই যোগ্য পিতার যোগ্য কন্যা। রাজনীতিতেও আছে তাদের দক্ষতা। পিতাদের মতোই তারা বিএনপি’র রাজনীতির প্রতি অনুগত। বিগত সংসদ নির্বাচনে তিনজনই ছিলেন আলোচনায়। মনোনয়ন না পেলেও দলের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করেছেন। সূত্র বলছে; এই তিনজনের মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন হারিছকন্যা সামিরা। হবিগঞ্জের সাবেক এমপি শাম্মী আক্তার রাজপথের লড়াকু সৈনিক ছিলেন। এ কারণে তিনি এখন অসুস্থতায় কাবু। ফলে আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে তাকেও এগিয়ে রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া মৌলভীবাজার বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি রেজিনা নাসের রহমান গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে এগিয়ে। মৌলভীবাজারের সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার পদচারণা অনেক আগে থেকেই। সিলেটের এডভোকেট রোকসানা, সামিয়া ও তামান্না বিগত দিনে আন্দোলনে মাঠে ছিলেন। সুনামগঞ্জের সাবেক এমপি’র স্ত্রী হিসেবে সালমা নজিরকেও এগিয়ে রাখা হচ্ছে।

এদিকে শুধু বিএনপিই নয়, বিরোধী দল জামায়াতেরও একাধিক নেত্রী রয়েছেন আলোচনায়। এর মধ্যে রয়েছেন জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানের স্ত্রী সাবেক এমপি ও মহিলা জামায়াতের সিলেট অঞ্চল দায়িত্বশীল আমিনা শফিক, সাহিদা বেগম ও ফাহিমা খানম হ্যাপি, সিলেটের এডভোকেট আলীম উদ্দিনের স্ত্রী ও মহানগর মহিলা জামায়াতের সেক্রেটারি ফৌজিয়া রহমান শিউলী।

ডিএস/এফআর/এসএ

Explore More Districts