মোহাম্মদ আলী
ঘর, বাড়ি, চাকরি, প্রশিক্ষণ ও ঋণ সহায়তা দেওয়ার কথা বলে কয়েকশ নারী, পুরুষ ও শিশুদের ডেকে এনে ঘন্টার পর ঘন্টা রোদে পুড়াল “গ্লোবাল ইমাম মুয়াজ্জিন মুসুল্লি চ্যারিটি” নামের একটি অনিবন্ধিত সংস্থা। শুধু সাহায্য প্রার্থীদের নয়, ভাদ্র মাসের প্রচন্ড গরমে খোলা আকাশের নীচে বসিয়ে রোদে পুড়িয়েছেন, এমপি, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের! তাদের গা বেয়ে ঝরে পড়েছে ঘাম!
আয়োজকদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন অব্যবস্থানার প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিশেষ অতিথিসহ আমন্ত্রিত মেহমানরা। তবে, এর জন্য অবশ্য প্রশাসনকে দায়ী করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন আয়োজক কমিটি।
শনিবার জামালপুর মেডিক্যাল কলেজের উত্তর প্বার্শে গ্লোবাল ইমাম মুয়াজ্জিন মুসুল্লি চ্যারিটি নামের একটি অনিবন্ধিত নতুন সংস্থা জামালপুর ও শেরপুর জেলার দুঃস্থ, অসহায়, দরিদ্র, দিনমজুর, প্রতিবন্ধী ও বেকারদের সাহায্য করার নামে তাদের ডেকে এনে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করেন। সকাল ১১টা থেকে আয়োজনস্থলে মানুষ আসতে শুরু করলেও অনুষ্ঠান শুরু দুপুর আড়াইটার দিকে। প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা আসেন আরো পরে। মূল অনুষ্ঠান শুরু হয় সাড়ে ৩টার দিকে। চলে প্রায় ৫টা পর্যন্ত। এই পুরোটা সময়জুরে অনুষ্ঠানস্থলে দর্শক সারিতে বসা শত শত নারী, পুরুষ, আবাল, বৃদ্ধা, বনিতা খোলা আকাশের নীচে রোদে পুড়েছেন। এক পর্যায় তারা সহ্য করতে না পেরে মঞ্চের পিছনে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।
অব্যবস্থাপনার এমন দৃশ্য দেখে রাগে ক্ষ্যাপে যান অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি, জামালপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সিরাজুল হক। তিনি বলেন, আয়োজকদের মধ্যে একজন গরুর ডাক্তার আছেন। তিনি আমাদের সবাইকে গরু মনে করেছেন। তাই, গরীব অসহায় মানুষের ধরে এনে এই খোলা মাঠে ছেড়ে দিযেছেন। তিনি আয়োজকদের হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, সেবার কথা বলার আগে আপনি নিজেকে যাচাই করুন যে, আপনি সেবা দেবার জন্য প্রস্তুত কি না?
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, এড. শাহ ওয়ারেছ আলী মামুন এমপি আয়োজকদের উদ্দেশ্য বলেন, আপনাদের এ মানবিক লক্ষ্য উদ্দেশ্যের পিছনে অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, আমরা তা যাচাই করে দেখব।
গ্লোবাল ইমাম মুয়াজ্জিন মুসুল্লি চ্যারিটি এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, হেদায়েতুল্লাহ বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য সৎ ও মহৎ। অনুষ্ঠানটা যেভাবে করতে চেয়েছিলাম স্থানীয় প্রশাসন আমাদেরকে সেভাবে করতে দেয়নি। সেজন্য আমরা দুঃখিত, আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থী।
অনুষ্ঠান শেষে সাধারণ দর্শক ও আমন্ত্রিত মেহমানগণ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তাদের দাবি, আয়োজকদের আশ্বাস, আচরণ ও কথা বার্তা সন্দেহজনক! তাদের কর্মকান্ডের প্রতি গভীর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।
