ওপরের গ্রেডে বেতন কম
সরকারি চাকরিতে বিভিন্ন পদ ও পেশার কর্মীদের বেতন গ্রেড নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। একই ধরনের দায়িত্ব পালন করেও কোনো কোনো পদে বেতন গ্রেডের পার্থক্য, পদমর্যাদার সঙ্গে গ্রেডের অসামঞ্জস্য এবং পদোন্নতির পর আর্থিক সুবিধা কমে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করতে গিয়ে এসব অসংগতি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীরা এসব বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। জ্যেষ্ঠতা, গ্রেডের ক্রম, উচ্চতর গ্রেড ও বাড়িভাড়া ভাতা নির্ধারণের অসংগতির কথা জানিয়ে তাঁরা অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে সম্প্রতি আবেদন করেছেন।
আবেদনগুলোয় অসংগতির উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। নতুন বেতনকাঠামোর একটি অসংগতি হচ্ছে ১১তম ও ১২তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণে। নতুন কাঠামোয় ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২৫ হাজার টাকা। আর ১২তম গ্রেডে তা ২৪ হাজার ৩০০ টাকা। প্রারম্ভিক বেতনে ১১তম গ্রেড এগিয়ে থাকলেও আগের বেতন সমন্বয়ের পর তা উল্টে যাচ্ছে।
একজন কর্মকর্তা অঙ্ক করে বিষয়টি তুলে ধরেন প্রথম আলোর কাছে। তিনি জানান, ১১তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর গত ৩০ জুন মূল বেতন ছিল ২৩ হাজার ৬৬০ টাকা। আগের কাঠামোয় তাঁর বেতন বেড়েছিল ১১ হাজার ১৬০ টাকা। নতুন কাঠামোর প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে এই বৃদ্ধি যোগ করলে দাঁড়ায় ৩৬ হাজার ১৬০ টাকা। তবে নতুন কাঠামোয় এই অঙ্কের ধাপ না থাকায় পরবর্তী ধাপে তাঁর বেতন নির্ধারিত হচ্ছে ৩৭ হাজার টাকা।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ১২তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর একই সময়ে মূল বেতন ছিল ২৩ হাজার ৫৮০ টাকা। আগের কাঠামোয় তাঁর বেতন বেড়েছিল ১২ হাজার ২৮০ টাকা। নতুন কাঠামোয় হিসাব করলে দাঁড়ায় ৩৬ হাজার ৫৮০ টাকা। তবে পরবর্তী ধাপে তাঁর মূল বেতন হচ্ছে ৩৭ হাজার ৭০০ টাকা। সে হিসাবে ১১তম গ্রেডের কর্মচারীর চেয়ে ১২তম গ্রেডের কর্মচারী ৭০০ টাকা বেশি মূল বেতন পাচ্ছেন।
