আল মাহমুদ আমাদের গ্রাম ও গ্রামীণ জীবনঘনিষ্ঠতা নিয়ে বেড়ে ওঠা এক কবি। তাঁর কবিতায় সে জীবন নিবিড়ভাবে উঠে এসেছে। এবং ধর্মের প্রতি তাঁর বিশ্বাস। অন্যদিকে শামসুর রাহমান ঢাকা শহরের এলিট সমাজে বেড়ে ওঠা এক কবি। আধুনিক প্রজন্মের মানুষ, নাগরিক সমাজের চিত্র, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও আন্তর্জাতিকতাবাদের প্রভাব নিয়ে রাহমান কাজ করেছেন। মামুনের এই প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের প্রধান দুই কবির ছবি পাশাপাশি প্রদর্শিত হলো।
নাসির আলী মামুনকে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে আল মাহমুদ বারবার বলছেন, বাংলাদেশের প্রধান কবি শামসুর রাহমান। কিন্তু শামসুর রাহমান তাঁর জবাবে বলতে পারেননি যে আপনিও একজন প্রধান কবি। আমাদের মধ্যে এ ধরনের বিষয়গুলো ছিল, এখনো রয়ে গেছে। আর বিগত বছরগুলোতে আমরা অনেক রাজনৈতিক তর্কবিতর্ক করে চলেছি। বলতে দ্বিধা নেই, এখন প্রথম আলোর পক্ষ থেকে আমরা আরও উন্মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছি। সকল মত ও চিন্তাকে আমরা আরও বেশি বেশি করে আমাদের পত্রিকায় নিয়ে আসতে চাই।
আজকে বলতে চাই, লেখক–শিল্পী–কবিদের সরাসরি কোনো রাজনীতিতে যুক্ত না হওয়াই শ্রেয়, ভালো। বিগত সময়ের অভিজ্ঞতা বলে, রাজনীতির কারণে শিল্পীদের মধ্যে যে বিরোধ ও বিচ্ছেদ তৈরি হয়েছে, তা খুব ক্ষতি করেছে আমাদের শিল্প–সংস্কৃতিকে। আমরা কবিকে কবির মর্যাদা দিতে চাই। লেখককে লেখকের মর্যাদা দিতে চাই। আমরা প্রথম আলো থেকে সেই চর্চা করি এবং আত্মসমালোচনা করি—আমরা ভুল করেছি, সংশোধন করতে হবে এবং আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
(সামান্য পরিমার্জিত)
