| ৩০ September ২০২৬ Wednesday ১:০৬:১০ AM | |
নিজস্ব প্রতিনিধি:

বরিশাল নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে দৈনিক বরিশাল মুখপত্র পত্রিকার বার্তা সম্পাদক সাংবাদিক আসাদুজ্জামান মুরাদ ও যুগ্ম বার্তা সম্পাদক সাইফুল অপূর্বের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের অভিযোগ, সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণের সময় তাদের ঘিরে ধরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয়। এ সময় তাদের ‘ভুয়া সাংবাদিক’ ও ‘আওয়ামী লীগের লোক’ আখ্যা দেওয়া হয় এবং মোবাইল ফোন নিয়ে সংঘর্ষের ধারণ করা ভিডিও মুছে দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্বের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান মুরাদ ও সাইফুল অপূর্ব সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় বিএনপি নেতা বাবুল মোহরীর নেতৃত্বে শতাধিক লোক তাদের ঘিরে ধরেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীদের মধ্যে নিজেদের ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া কয়েকজনও ছিলেন। তারা দুই সাংবাদিককে বিভিন্নভাবে অপমান করার পাশাপাশি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
একপর্যায়ে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে সংঘর্ষের সময় ধারণ করা ভিডিও মুছে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সংঘর্ষের প্রকৃত চিত্র যাতে প্রকাশ না পায়, সে উদ্দেশ্যেই ভিডিওগুলো মুছে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। রাজনৈতিক কোনো পক্ষের সংঘর্ষ বা অন্য কোনো ঘটনার সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলা, তাদের পেশাগত পরিচয় নিয়ে অপমান এবং ধারণ করা সংবাদ-উপকরণ মুছে দেওয়ার অভিযোগকে সংশ্লিষ্টরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে হামলার সময়কার ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে বলে জানা গেছে।
তবে সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়ে বিএনপি নেতা বাবুল মোহরী কিংবা হামলায় জড়িত বলে অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ, হামলায় কারা জড়িত ছিলেন এবং সাংবাদিকদের ধারণ করা ভিডিও কীভাবে ও কার নির্দেশে মুছে দেওয়া হয়েছে, এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়ার দাবি উঠেছে।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |

