| ১৯ May ২০২৬ Tuesday ১:১০:৪৮ PM | |
পিরোজপুর প্রতিনিধি:

পিরোজপুরে শ্রমিক সংকটে পাকা ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। ধান পেকে গেলেও শ্রমিক সংকটে ধান কাটতে না পারায় চোখের সামনে জমিতেই নষ্ট হচ্ছে কষ্টের ফসল। জমির ফসল পাকলেও কৃষাণীর অভাবে ধান কাটতে না পারায় লোকসানের আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় কৃষক।
বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে বাতাশে দুলছে কৃষকের স্বপ্নের সোনালী ধান। ইতো মধ্যে মাঠের অধিকাংশ ধান পাকলেও কৃষাণীর অভাবে মাঠ থেকে ধান কেটে ঘরে তুলতে পারছেন না তারা। এ বছর জেলায় ৩৫ হাজার ৯৩ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর আবাদ হয়েছে ৩৪ হাজার ৫ হেক্টর জমি।
পরিবেশ অনুকুল থাকায় এ বছর ধানের ফলনও বেশ ভালো। কিন্তু উৎপাদন ভালো হলেও তার সুফল ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষকেরা। কৃষাণীর অভাবে ধান কাটতে না পারায় বর্ষা আর বাতাসে ধান নুয়ে পড়ছে জমিতে। ধান পেকে ঝরে যাওয়ায় ফসল নষ্ট হবার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষাণী না পেয়ে বাধ্য হয়ে নিজেরাই ধান কাটতে শুরু করেছেন। কৃষকের অভিযোগ যদিও কৃষাণী পাওয়া যায় তাদেরকে দিতে হচ্ছে বারতি মজুরি।
পিরোজপুর সদর উপজেলার রায়েরকাঠী এলাকার কৃষক ফজলু হাওলাদার বলেন, ‘এ বছর ৫ বিঘা জমিতে লাল তীর ময়না ও হীরা টু জাতের ধান চাষ করেছি। এ বছর ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু শ্রমিক সংকটে এখন ধান কাটতে পারছি না। অধিকাংশ ধানই পেকে গিয়েছে। শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না আবার যাদেরকে পাওয়া যাচ্ছে তারা ৭০০ টাকার বদলা ৯০০-১০০০ টাকা চাচ্ছে। এবং তাদের দুই বেলা খাবার দেওয়া লাগে। সবমিলিয়ে এক হাজার টাকার ওপরে বদলা খরচ পড়ে যায়। কিন্তু ধান বিক্রি করতে গেলে ধানের মণ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার বেশি পাওয়া যায় না। আবার এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করতে খরচ হয় ১৮ থেকে ২০ টাকা। তাই ধান চাষ দিন দিন লোকসানে পরিণত হচ্ছে। সরকারিভাবে তদারকি করা না হলে দিন দিন এই এলাকায় ধান চাষ বন্ধ করে দিবে কৃষক।’
কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক সৌমিত্র সরকার বলছেন, ইতোমধ্যে ৫৫ভাগ ধান কর্তন করা হয়েছে। আর সমস্যা সমাধানে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। পাশাপাশি যান্ত্রিক ব্যবস্থাপনায় ধান কাটতে কৃষকদের উৎসাহ যোগাচ্ছেন তারা।
এ বছর জেলায় ২ লাখ ৫০ হাজার ৩০ মেট্রিক টন রোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |


