শেরপুর প্রতিনিধি
শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকায় সরকারি বনের গাছ কাটার হিড়িক চলছে। যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে শেরপুরের শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার সংরক্ষিত বনভূমিতে এই গাছ নিধনের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। তবে গাছ কাটার চোরাই সিন্ডিকেট ধরতে বন বিভাগ নড়েচড়ে বসেছে। সম্প্রতি গজনী বিটে দিনেরাতে গাছ নিধন করছে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী। কিছু সংখ্যক লোকবল নিয়োগ করে তাদেরকে দিয়েই এসব কাজ করাচ্ছেন বলে স্থানীয় একটি মহল জানিয়েছেন। এইসবের অভিযোগের তীর স্থানীয় যুবদল নেতা দুলাল মন্ডলের দিকে। তার সিন্ডিকেটের সদস্য হিসাবে চোরাই ভাবে গাছ কাটা কাজের সাথে তাঁরা মিয়া, হাবিবুর রহমান (নাদারু), শুক্কুর আলী গংরা জড়িত। বনবিভাগ বিভিন্ন কৌশল করেও ধরতে পারছে না তাদেরকে। বরং নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতেই নিজেদের লোকদিয়ে গাছ কাঁটিয়ে নিরীহ ব্যক্তিদের ফাঁসানোর পায়তারাতেই লিপ্ত রয়েছে। গত ১৯ এপ্রিল রোববার দুপুরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বেশ কিছু কাটা অবস্থায় রেখে যাওয়া গাছ উদ্ধার করে বন বিভাগ। স্থানীয়সূত্র বলছে অবৈধপন্থায় পাচারের উদ্দেশ্যে এসব গাছ রাতের অন্ধকারে কাটা হয়েছে। যা দুলাল মন্ডলের ইশারায় তারই সিন্ডিকেটের সদস্য হাবিবুর রহমান (নাদারু) ও শুক্কুর আলী জড়িত। বনকে বাঁচাতে ইতিমধ্যে স্থানীয় তরুণদের সংগঠন ‘ঝিনাইগাতী সম্মিলিত তরুণ সমাজের ব্যানারে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে তারা বলেন, গারো পাহাড় বাংলাদেশের অন্যতম জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ অঞ্চল হলেও অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলন, নির্বিচার বন উজাড় এবং মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ডের কারণে এই এলাকার পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। তারা এসব ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। এ বিষয়ে দুলাল মন্ডলের সাথে কথা হলে তিনি জানান, বন খেকোদের বিরুদ্ধে আমি শুরু থেকেই প্রতিবাদ করে আসছি এজন্য আমাকে বিভিন্ন সময় মিথ্যা অপবাদ দেয়া হয়েছে। আমি এইসব চোরদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছি। সম্প্রতি বনে গাছ কাটার খবর পেয়ে লোকবল নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে কয়েকজন ব্যক্তিকে আটক করি আর কয়েকজন পালিয়ে যায়। মূলত তারাই ষড়যন্ত্র করছে। এ বিষয়ে বন বিভাগের ফরেস্টার সালেহিন নেওয়াজের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
