রোনালদো বললেন, কথা না রাখায় পর্তুগাল ক্যাম্প ছেড়েছিলেন – DesheBideshe

রোনালদো বললেন, কথা না রাখায় পর্তুগাল ক্যাম্প ছেড়েছিলেন – DesheBideshe



রোনালদো বললেন, কথা না রাখায় পর্তুগাল ক্যাম্প ছেড়েছিলেন – DesheBideshe
রোনালদো

লিসবন, ০৭ অক্টোবর-পর্তুগাল জাতীয় দলকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া দীর্ঘ এক বিবৃতিতে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার কারণ, কোচ জর্জে জেজুসের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন, নরওয়ে ম্যাচে তাঁকে খেলানো নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি এবং সংবাদ সম্মেলনে কোচের বক্তব্যের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন তিনি।

রোনালদো জানিয়েছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের পর জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। এমনকি পর্তুগিজ জনগণের উদ্দেশে বিদায়ী চিঠিও লিখে রেখেছিলেন। তবে বিশ্বকাপ শেষ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার পথে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) সভাপতি তাঁকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে অনুরোধ করেন। নতুন কোচের নাম নিয়েও তাঁর মতামত নেওয়া হয়েছিল বলে জানান রোনালদো।

জাতীয় দলের নতুন কোচের সঙ্গে আলোচনার সময় রোনালদোকে নির্দিষ্ট কিছু ম্যাচে খেলানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে নরওয়ে ও ডেনমার্কে দলের সঙ্গে না গিয়ে পর্তুগালে থাকার প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। পরে নরওয়ে ম্যাচে ৩০ মিনিট খেলানোর কথা বলে তাঁকে ওয়ার্ম-আপ করানো হলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে নামানো হয়নি। এ ঘটনায় কোচের ওপর আস্থা হারানোর কথা জানিয়েছেন রোনালদো।

রোনালদোর পুরো বক্তব্য তুলে ধরা হলো:

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বক্তব্য

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সর্বশেষ জাতীয় দলের ক্যাম্পে আসলে কী ঘটেছিল, তা এবার আমি সরাসরি এবং নিজের ভাষায় জানাতে চাই।

২০২৬ বিশ্বকাপের পর পর্তুগালের জনগণের উদ্দেশে একটি চিঠি লিখেছিলাম। সেই চিঠি এখনো আমার কাছে আছে। জাতীয় দল থেকে চূড়ান্তভাবে বিদায় নেওয়ার সময় পর্তুগিজ জনগণকে যে কথাগুলো বলতে চাই, সেখানে সেগুলোই লিখেছি।

বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার বিমানে ফেডারেশনের সভাপতি আমাকে জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে অনুরোধ করেন এবং এ বিষয়ে জোরও দেন। কারণ, ফেডারেশন চেয়েছিল আমি জাতীয় দলে থেকে যাই।

এরপর তিনি বর্তমান প্রধান কোচের নাম নিয়ে আমার মতামত জানতে চান। আরও কয়েকজনের নামও তাঁর বিবেচনায় ছিল, তবে সেগুলো তিনি আমাকে জানাননি। আমি ফেডারেশন সভাপতিকে বলেছিলাম, আমার মতে বর্তমান কোচই সঠিক পছন্দ হবেন।

তাই বর্তমান কোচের নাম ঘোষণা করার দিন আমি সত্যিই খুশি হয়েছিলাম। আমার কাছে এটি সঠিক সিদ্ধান্ত মনে হয়েছিল, যার প্রমাণ এখন ফলাফলেই দেখা যাচ্ছে।

কয়েক দিন পর জাতীয় দলের নতুন কোচ প্রথমবার আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে আমার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। আমি রাজি হই এবং ছুটি শেষ হওয়ার সময় দেখা করার সিদ্ধান্ত হয়।

আমরা সিদাদে দো ফুটবলে দেখা করি, যেখানে আমার ক্লাবের প্রাক-মৌসুমের ক্যাম্প চলছিল। সেদিন প্রধান কোচ আমাকে বলেন, তিনি আমাকে তাঁর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চান এবং তাঁর প্রকল্পে আমার উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। সেখানেই তিনি জাতীয় দলে আমার ভূমিকা নিয়ে একটি পরিকল্পনা আমার সামনে তুলে ধরেন।

তিনি জানান, আমি প্রথম ও শেষ ম্যাচ খেলব। শারীরিক সক্ষমতা ঠিক রাখার জন্য প্রতিটি ম্যাচে তিন-চারজন করে খেলোয়াড় পরিবর্তন করবেন বলেও জানান তিনি।

এরপর তিনি প্রস্তাব দেন, আমি যেন দলের সঙ্গে নরওয়ে ও ডেনমার্ক সফরে না যাই। তাঁর পরিকল্পনা ছিল, আমি প্রথম ম্যাচটি খেলব, এরপর পর্তুগালে থাকব এবং পোর্তোর দো দ্রাগাঁও স্টেডিয়ামে ম্যাচের আগে দলের সঙ্গে যোগ দেব।

আমি সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করি। আমার কাছে বিষয়টি গ্রহণ করা সম্ভব ছিল না। বিদেশে ম্যাচ খেলব না ঠিক আছে, কিন্তু আমি তখনও জাতীয় দলের অধিনায়ক। অধিনায়ক হিসেবে শুধু নিজের জন্য এই বিশেষ সুবিধা নেওয়া দলের জন্য ভালো উদাহরণ হতো না।

প্রধান কোচ শেষ পর্যন্ত আমার বক্তব্য মেনে নেন।

সেই আলোচনায় আল নাসরের স্পোর্টিং ডিরেক্টর সিমাও কুতিনিও উপস্থিত ছিলেন। গত মৌসুমে বর্তমান প্রধান কোচ তাঁর কাছেই রিপোর্ট করতেন এবং ২০২৫ সালে ক্লাবটিতে কোচকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

ক্যাম্প শুরুর আগের দিন প্রধান কোচের অনুরোধে তিনি আমার লিসবনের বাসায় আসেন। আমাদের মধ্যে আরেকটি আলোচনা হয়। কথোপকথনটি শান্তিপূর্ণ ছিল এবং আগস্টে যে বিষয়গুলোতে আমরা একমত হয়েছিলাম, সেগুলোই বহাল থাকে।

আমি আলভালাদে ম্যাচটি খেলি। আমাকে বদলি করা হলেও আমি কোনো আপত্তি করিনি। নিজেই ব্রুনো ফার্নান্দেজের হাতে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড তুলে দিয়েছিলাম। তখনও ভাবিনি, জাতীয় দলের খেলোয়াড় ও অধিনায়ক হিসেবে হয়তো সেটিই আমার শেষ সময়গুলোর একটি।

সেদিন আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল দলের জয়। জয় সবসময়ই ভালো। আর পর্তুগালের হয়ে, দেশের জন্য জয় আরও বেশি আনন্দের।

নরওয়ে ম্যাচের দিন দুপুরে দলের সবাই যখন খাবার খাচ্ছিলাম, তখন প্রধান কোচের এক সহকারী আমার টেবিলে এসে জানান, কোচ আমার সঙ্গে কথা বলতে চান।

আমি ভীষণ অবাক হয়ে যাই। কোচ আমাকে জিজ্ঞেস করেন, আমি ৩০ মিনিট খেলতে প্রস্তুত কি না। তখন আমি পুরোপুরি শারীরিক পুনরুদ্ধারের দিকে মনোযোগী ছিলাম, সবসময়কার মতো সতীর্থদের সঙ্গে দলের অংশ হয়েই ছিলাম এবং ধরে নিয়েছিলাম সেদিন আমি খেলব না। তাতে আমার কোনো সমস্যা ছিল না।

এই প্রস্তাবটি আমার শারীরিক পুনরুদ্ধার ও অনুশীলনের পরিকল্পনার বাইরে ছিল। কারণ, আমার শুধু ৪ তারিখ দো দ্রাগাঁওয়ের ম্যাচে খেলার কথা ছিল। তারপরও আমি অবশ্যই রাজি হই। তিনি আমাকে বলেন, প্রস্তুত থাকতে, কারণ আমি ৩০ মিনিট খেলব।

এরপর যা ঘটেছে, তা সবাই জানেন। দ্বিতীয়ার্ধের বিরতিতে আমি ওয়ার্ম-আপ করি। মিনিটের পর মিনিট চলে যায়, কিন্তু আমাকে মাঠে নামানো হয়নি।

প্রধান কোচ তাঁর দেওয়া কথা রাখেননি।

ম্যাচ শেষে আমার একমাত্র চাওয়া ছিল জয় নিয়ে সবকিছু শেষ হোক এবং আমাকে কিছু সময় একা থাকতে দেওয়া হোক। আমি দর্শকদের অভিবাদন জানাতে যাইনি। এটি পুরোপুরি আমার ভুল এবং এমনটা হওয়া উচিত ছিল না।

সেখানে আমাদের সমর্থন করতে আসা পর্তুগিজ জনগণের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি। সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইছি। যারা পর্তুগিজ না হয়েও আমাকে দেখতে সেখানে গিয়েছিলেন এবং আমার কারণে হতাশ হয়ে থাকলে তাঁদের কাছেও ক্ষমা চাইছি।

৪৮ ঘণ্টা পর আমাদের মধ্যে একটি আলোচনা হয়। সেখানে আমি, প্রধান কোচ এবং সিমাও কুতিনিও উপস্থিত ছিলেন। আগস্টের আলোচনাগুলোতেও তিনি উপস্থিত ছিলেন বলেই তাঁকে রাখা হয়েছিল।

সেটি ছিল গভীর এবং অত্যন্ত খোলামেলা একটি আলোচনা। সেখানে কোনো কিছুই গোপন রাখা হয়নি।

আমরা একমত হয়েছিলাম, এই বিষয়টি শেষ করার একমাত্র উপায় হলো প্রধান কোচ ব্যক্তিগত আলোচনায় আমাকে যা বলেছিলেন, সেটিই সিমাও কুতিনিওর সামনে সংবাদ সম্মেলনে বলা।

আমরা যে বিষয়ে একমত হয়েছিলাম, তা খুবই সহজ ছিল। প্রধান কোচ সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই বিষয়টি তুলে ধরবেন এবং সত্যটা বলেই বিষয়টির ইতি টানবেন।

তিনি বলবেন, আমি কখনো কোনো মিনিট খেলার অনুরোধ করিনি। বরং তিনিই এই ক্যাম্পের জন্য আমার সঙ্গে খেলার পরিকল্পনা করেছিলেন। আমাকে ওয়ার্ম-আপ করিয়ে মাঠে না নামানো তাঁর ভুল ছিল এবং এমন ঘটনা আবার ঘটলে তিনি তা করবেন না।

আলোচনা শেষে প্রধান কোচ আমাকে জড়িয়ে ধরার অনুরোধ করেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, সংবাদ সম্মেলনে আমার সঙ্গে যে কথা বলেছেন সেটিই বলবেন এবং এরপর বিষয়টি আমরা পেছনে ফেলে আসব। আমি ডেনমার্কে খেলব না এবং দো দ্রাগাঁওয়ের ম্যাচে খেলব। এসব কথাই সিমাও কুতিনিওর উপস্থিতিতে বলা হয়েছিল।

প্রধান কোচের অনুরোধে এরপর তাঁর সঙ্গে সিমাও কুতিনিও ও তিয়াগো ক্রাভেইরোর একটি ভিডিও বৈঠক হয়। সেখানে আমাদের আলোচনার বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়।

এরপর একটি ছোট নথি তৈরি করা হয়। আমি সেটি যাচাই করে অনুমোদন করি এবং আমার জ্ঞাতসারে নথিটি প্রধান কোচের কাছে দেওয়া হয়, কারণ তিনিই এটি চেয়েছিলেন।

কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে যা ঘটেছে, তা সবাই জানেন। তাঁর আচরণের সঙ্গে আমাদের আগের বৈঠকের কোনো মিল ছিল না।

আমি এমন কিছু কথা শুনেছি এবং এমন এক ধরনের আগ্রাসী আচরণ দেখেছি, যা আমার মনে হয় আমি প্রাপ্য ছিলাম না। সেখানে এমন একটি ‘সবজান্তা ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ মনোভাব ছিল, যা আগের দিন ব্যক্তিগত আলোচনায় তিনি একবারও, সামান্যতমভাবেও দেখাননি।

আমি যে নোটটি অনুমোদন করেছিলাম, সেখানে লেখা ছিল:

১. ডেনমার্ক নিয়ে কথা বলার আগে কয়েকটি বিষয় পরিষ্কার করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এগুলোই সত্য। জাতীয় দলের এই মৌসুমের জন্য আমিই এককভাবে ক্রিশ্চিয়ানোর সঙ্গে একটি পরিকল্পনা করেছিলাম। আমাদের মধ্যে দীর্ঘ ও খুব ভালো একটি আলোচনা হয়েছিল।

২. আমি জানি, সে জাতীয় দলকে কতটা ভালোবাসে এবং জাতীয় দলের জন্য কতটা বাঁচে। বিশ্বে তার যে মর্যাদা, আর টানা ২৪ বছর জাতীয় দলে তার যে গুরুত্ব ও ইতিবাচক প্রভাব, সেটিও আমি জানি।

৩. আমি ক্রিশ্চিয়ানোর জন্য যে পরিকল্পনা দিয়েছিলাম, সে সেটি গ্রহণ করেছিল।

৪. সে কখনো আমার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি। সে ছিল আদর্শ, বিশ্বস্ত ও পেশাদার।

৫. নরওয়ের ম্যাচটি তার জন্য তৈরি করা পরিকল্পনার অংশ ছিল না। তবে আমার মনে হয়েছিল, প্রথম ম্যাচের পর সে শারীরিকভাবে ভালোভাবে সেরে উঠেছে। তাই তাকে বলেছিলাম, প্রয়োজন হলে তাকে খেলাতে হতে পারে। ক্রিশ্চিয়ানো তাতে রাজি হয়েছিল।

৬. পেলের বা ম্যারাডোনার মতো মর্যাদার একজন খেলোয়াড়কে ওয়ার্ম-আপ করিয়ে মাঠে না নামানো আমার ভুল ছিল। আজ যদি একই পরিস্থিতি হতো, আমি এমনটা করতাম না।

৭. বিষয়টি শেষ করার জন্য বলছি, আমি ক্রিশ্চিয়ানোকে জাতীয় দলে চাই। শুধু একটু চাই না, আমি তাকে অনেক বেশি চাই। সৌভাগ্যবশত, সেও আমার ওপর বিশ্বাস রাখে। সে আল নাসরে আমাকে বিশ্বাস করেছিল, এখানেও করছে।

৮. সে কেন দর্শকদের অভিবাদন জানায়নি, সে বিষয়ে আমরা ইতিমধ্যে কথা বলেছি। জাতীয় দলের হয়ে ২৩০টির বেশি ম্যাচ খেলা একজন মানুষকে পর্তুগালের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে আমার কাছ থেকে কোনো শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এটি ছিল হতাশার একটি মুহূর্ত, যা তার ভালোবাসার কোনো কিছুই মুছে দেয় না। সে-ই এমন খেলোয়াড়, যে সবচেয়ে বেশি অটোগ্রাফ দেয়, সবচেয়ে বেশি সেলফি তোলে এবং সমর্থকদের সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা দেখায়। যেখানে কোনো সমস্যা নেই, সেখানে সমস্যা তৈরি করা উচিত নয়। আমরা যখন খুশি থাকি না, তখন প্রতিক্রিয়া দেখাই। এটুকুই ঘটেছে।

এসব নোটে প্রধান কোচের পক্ষ থেকে আমাকে ক্ষমা চাওয়ারও কোনো প্রয়োজন ছিল না।

কিন্তু এটি ছিল দ্বিতীয়বার, যখন তিনি আমার কাছে দেওয়া কথা রাখেননি।

আর কোনো প্রতিশ্রুতি ভাঙার অপেক্ষায় না থেকে আমি ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আমার কাছে মানুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সত্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সত্য যতই কষ্টদায়ক হোক, আমাকে সত্য বলুন।

সত্যি বলতে, সংবাদ সম্মেলনের দিন সকালে ফেডারেশনের সভাপতি ও প্রধান কোচের সঙ্গে আমার যে আলোচনা হয়েছিল, তাঁরা নিশ্চয়ই সেটি নিশ্চিত করতে পারবেন। সেখানেও আমি বলেছিলাম, তাঁরা যদি আমাকে দলে না চান, তাহলে সরাসরি যেন আমাকে বলেন।

শুধু আমার সঙ্গে সৎ হতে হতো। আমি সেটা মেনে নিতাম। এমনকি আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, আমরা মিলে একটি সুন্দর বিদায়ের আয়োজন করব, যেভাবে আমি স্বপ্ন দেখি। কেউ কারও ওপর রাগও করত না।

আজকের মতোই ঘটনাটি আমার মনে আছে। তাঁরা দুজন একসঙ্গে বলেছিলেন, ‘না।’ তাঁরা বলেছিলেন, জাতীয় দলেই আমার জায়গা।

প্রায় ২৫ বছরের ফুটবল জীবনে জাতীয় দলের কোনো কোচ বা ম্যানেজারের কোনো কৌশলগত বা কারিগরি সিদ্ধান্তে আমি কখনো হস্তক্ষেপ করিনি। তাঁরা যে সিদ্ধান্ত নেন, সেটি আমার পছন্দ হোক বা না হোক, আমি শুধু সেটি মেনে নিই।

আমি সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। কিন্তু যখন আমার সঙ্গে দেওয়া কথা ভেঙে দেওয়া হয়, তখন আমি অনুভব করি, সেখানে আমার জায়গা নেই।

ক্যাম্প ছেড়ে আসার জন্য জাতীয় দলের সতীর্থদের কাছেও আমার ক্ষমা চাওয়া উচিত। প্রধান কোচের কথায় যে আস্থার সম্পূর্ণ ভাঙন ঘটেছিল, আমাদের আলোচনার প্রত্যক্ষদর্শীরা তা জানেন। তারপরও আমার ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়া উচিত হয়নি। এর পুরো দায় আমার।

পর্তুগালের জনগণের কাছে আবারও ক্ষমা চাইছি। কিন্তু কারও দেওয়া কথা ভেঙে ফেলা আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আমার মনে হয়েছিল, এরপর আমি দলে থেকে গেলে পুরো দলেরই ক্ষতি হবে। তাই আমি সবসময় যা বলে এসেছি, সেটিই করেছি। যখন মনে হয়েছে আমি আর উপকারী নই, ব্যাগ গুছিয়ে চলে এসেছি।

আমার এই সিদ্ধান্তের পরিণতি পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের মূল্যায়ন ও শাস্তির আওতায় আসা উচিত। আমার বিশ্বাস, এখানে কোনো ধরনের ছাড় থাকা উচিত নয়। আমি শুধু আর দশজন খেলোয়াড়ের মতো নই। আমি দলের অধিনায়ক। সেটি বরং শাস্তির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত একটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।

আমি ইতিমধ্যে ক্ষমা চেয়েছি। কিন্তু আমি জানি, কাজের পরিণতি থাকতেই হয়। ফুটবলে আমার মতো দীর্ঘদিন থাকা যে কেউ জানেন, প্রত্যেকের অবস্থান বা মর্যাদা যা-ই হোক, নিয়ম সবার জন্য একই।

এ বিষয়ে আমি অনেক কথা শুনেছি, আমার বিদায়ী ম্যাচ হওয়া উচিত, আমাকে সম্মানের সঙ্গে বিদায় জানানো উচিত এবং ফেডারেশন আমাকে সেই সুযোগ দিতে চায়।

জীবনে ক্ষুধার্ত অবস্থায়, খাওয়ার মতো কিছু না থাকা অবস্থায় আমি শিখেছি, কেউ কাউকে বিনা কারণে কিছু দেয় না।

আমি আমার সব ভক্তকে, বিশেষ করে পর্তুগালের জনগণকে স্বাভাবিকভাবেই প্রতিশ্রুতি দিতে পারি, আমাদের একটি বা একাধিক বিদায়ী ম্যাচ হবে। এর জন্য সময় আছে।

কিন্তু জাতীয় দলের কথা ভাবলে আমি যা ভাবি, তা হলো প্রতিযোগিতা করা। আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই। যেদিন আমার বাবার মৃত্যুর খবর পেয়েছিলাম, সেদিনও আমি এটাই ভেবেছিলাম। আমি জাতীয় দলের ক্যাম্পে ছিলাম এবং পরের দিনের ম্যাচ শেষ হওয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।

আমার কোনো ক্লাবের জন্য যা করা সম্ভব নয়, দেশের জন্য আমি সেদিন সেটিই করেছিলাম।

তাই আমি যদি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকি, ক্লাবের হয়ে খেলি এবং আশা করি গোলও করি, এরপর যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে তা শেষ করার পর আমি জাতীয় দলের হয়ে খেলতে প্রস্তুত থাকব।

আজ পর্যন্ত আমি যেমন প্রস্তুত ছিলাম, তেমনই দেশের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এবং জিততে প্রস্তুত থাকব।

বিশ্বাস করুন, এটাই সবচেয়ে নির্মল সত্য।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

এস এম/ ০৭ অক্টোবর ২০২৬

 

Explore More Districts