রংপুরে চাঁদা ও আধিপত্য নিয়ে তৃতীয় লিঙ্গের দুপক্ষের উত্তেজনা

রংপুরে চাঁদা ও আধিপত্য নিয়ে তৃতীয় লিঙ্গের দুপক্ষের উত্তেজনা

স্টাফ রিপোর্টার:
রংপুর নগরীর মডার্ন মোড় এলাকায় চাঁদা তোলার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য নিয়ে তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) সম্প্রদায়ের আলোচিত আনোয়ারা ইসলাম রানী ও মারুফা আক্তার মিতু গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় রানীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন মারুফা আক্তার মিতু গ্রুপের সদস্যরা।

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর মডার্ণ মোড়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তৃতীয় লিঙ্গ উন্নয়ন সংস্থা রংপুরের সভাপতি আনোয়ারা ইসলাম রানী।

সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ারা ইসলাম রানী বলেন, রংপুর মডার্ন মোড়সহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর কিছু মানুষ বাস ও বিভিন্ন স্থানে সাহায্য সংগ্রহের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তবে সাহায্য সংগ্রহের নামে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি, আপত্তিকর আচরণ এবং চাঁদাবাজির মতো ঘটনার অভিযোগ ওঠে। জনসাধারণের দুর্ভোগ বিবেচনায় সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত সাত মাস ধরে রংপুর মডার্ন মোড় এলাকায় বাসে সাহায্য সংগ্রহের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এই কারণে একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও অসত্য অভিযোগ তুলে ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

অপরদিকে দিনব্যাপী মিঠাপুকুর উপজেলা তৃতীয় লিঙ্গ (হিজরা সম্প্রদায়ের) সভাপতি মারুফা আক্তার মিতুর নেতৃত্বে মডার্ন মোড় এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। এ সময় আন্দোলনরত হিজড়ারা আনোয়ার হোসেন রানীর বিরুদ্ধে চাঁদা আদায়ে বাধা দিয়ে হুমকি-ধমকি ও মারপিটের অভিযোগ তোলেন।

মিঠাপুকুর উপজেলা সভাপতি মারুফা আক্তার মিতু জানান, আমরা মডার্ন মোড়ে দীর্ঘ ১৫ থেকে ২০ বছর থেকে কালেকশন করে খাই। বিগত সাত মাস থেকে রানী সেই কালেকশন বন্ধ করে দিয়েছে। এখন হিজড়া রানী তার লোকজন দিয়ে কালেকশন করাচ্ছে। অথচ ২০২১ সালে একটি ঘরোয়া বৈঠকে মডার্নে কালেকশন করার অনুমতির জন্য ১৪ ভরি স্বর্ণ দাবি করেছিলো রানী। সেই দাবি অনুযায়ী তখন তাকে স্বর্ণের দাম হিসেবে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এরপরও চলতি বছরে রমজানের ঈদের পরে মডার্ন মোড়ে কালেকশনের জন্য দৈনিক ২ হাজার টাকা করে দাবি করে রানী। এটা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারনে মডার্ণ মোড়ের কালেকশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

মহানগর তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, মডার্ন মোড়ের কালেকশনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়াদের) দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। এজন্য উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রংপুর/স/এস

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

Explore More Districts