মানবেতিহাসের একমাত্র মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবনাদর্শেই এই চার শর্তের শতভাগ বাস্তবায়ন ঘটেছে:
নবীজির জীবনের প্রতিটি দিন-রাত, এমনকি তাঁর হাঁটাচলা, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক, পারিবারিক আচরণ ও নফল ইবাদতের বিবরণও হাদিস ও ‘আসমাউর রিজাল’ (হাদিস বর্ণনাকারীদের জীবনী যাচাইয়ের শাস্ত্র)-এর মাধ্যমে সনদসহ সংরক্ষিত রয়েছে—ইতিহাসে যার দ্বিতীয় কোনো নজির নেই।
তিনি একাধারে এতিম বালক, বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী, আদর্শ স্বামী, স্নেহময় পিতা, বিচক্ষণ সমাজসংস্কারক, সফল সমরনায়ক, ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রের প্রধান এবং আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক। জীবনের এমন কোনো মানবিক স্তর নেই, যেখানে তাঁর অনুপম চরিত্রের বাস্তব উপস্থিতি অনুপস্থিত।
তিনি মানুষকে যা কিছু করার নির্দেশ দিয়েছেন, প্রথমে নিজের জীবনে তা পূর্ণাঙ্গরূপে বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন। শত্রুর চূড়ান্ত নিপীড়নে তিনি ক্ষমার চরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছেন, আবার রাষ্ট্রপ্রধান হয়েও সাধারণ মাটির বিছানায় ঘুমিয়ে কৃচ্ছ্র সাধনের প্রায়োগিক প্রমাণ দিয়েছেন।
আজ ১৪০০ বছর পেরিয়েও তাঁর সুন্নাহ বিশ্বের প্রতিটি ভৌগোলিক অঞ্চলে, সব ভাষা ও বর্ণের কোটি কোটি মানুষের জীবনে সমানভাবে কার্যকর ও প্রাসঙ্গিক। আধুনিক সভ্যতার নৈতিক সংকটেও তাঁর জীবনই মানবতার চূড়ান্ত আশ্রয়।
সূত্র: সাইয়েদ সোলাইমান নদভি, খুতুবাতে মাদ্রাজ, পৃষ্ঠা: ২২-৪১, ইদারায়ে মাতবুয়াতে তলাবা, লাহোর, ১৯৯৫
