যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার সংলাপ ইরানের সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল: জে ডি ভ্যান্স – DesheBideshe

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার সংলাপ ইরানের সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল: জে ডি ভ্যান্স – DesheBideshe



যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার সংলাপ ইরানের সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল: জে ডি ভ্যান্স – DesheBideshe

ওয়াশিংটন, ১৪ এপ্রিল – যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দ্বিতীয় দফার সংলাপ এখন তেহরানের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের সাংবাদিক ব্রেট বেইয়ারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার বৈঠকে ইরান চুক্তির জন্য প্রস্তুত ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জে ডি ভ্যান্স জানান, এই প্রশ্নটি ইরানিদের করা হলেই সবচেয়ে ভালো হয়। কারণ বল এখন তাদের কোর্টে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে ইরানের কাছ থেকে চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি পেতেই হবে। ইরান যদি এ ব্যাপারে একমত হয়, তবে দুই দেশের জন্যই একটি অত্যন্ত ভালো চুক্তি হতে পারে। আর তারা যদি রাজি না থাকে, তবে সেটি তাদেরই ব্যাপার।

ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত দুই যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব চলছে। এই দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ চলে। তবে কোনো সমঝোতা ছাড়াই সেই সংলাপ শেষ হয়।

এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। যুদ্ধের প্রথম দিনই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও প্রাণ হারান। পরবর্তীতে কূটনৈতিক পন্থায় উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে যুদ্ধের ৩৯তম দিনে ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। এর ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সংলাপে বসেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন জে ডি ভ্যান্স এবং ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পরও কোনো সমঝোতা ছাড়াই বৈঠকটি শেষ হয়।

জে ডি ভ্যান্স বলেন, ইসলামাবাদের সেই সংলাপে ইরানি প্রতিনিধি দলটি চুক্তি স্বাক্ষরের অবস্থানে ছিল না। তারা বুঝতে পেরেছিলেন যে, ইরানি প্রতিনিধিরা চাইলেই চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারবেন না। এর জন্য তাদের তেহরানে গিয়ে সর্বোচ্চ নেতা বা অন্য কারও অনুমোদন নিতে হবে।

তবে চুক্তি না হলেও ওই বৈঠক বিফলে যায়নি বলে মনে করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, ইরান মার্কিন নির্দেশনায় সামান্য হলেও এগিয়ে আসা শুরু করেছে। এটিকে একটি ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন তিনি। ভ্যান্সের মতে, এখনও একটি অসাধারণ চুক্তি করার সুযোগ রয়েছে, তবে পরবর্তী পদক্ষেপটি ইরানকেই নিতে হবে।

এনএন/ ১৪ এপ্রিল ২০২৬



Explore More Districts