
তেহরান, ৭ এপ্রিল – যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। এর পরিবর্তে সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ১০ দফা পরিকল্পনা তুলে ধরেছে দেশটি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, দুই সপ্তাহের উচ্চপর্যায়ের অভ্যন্তরীণ আলোচনা শেষে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে এই জবাব পাঠানো হয়েছে।
ইরান তাদের প্রস্তাবে স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতির ধারণাকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছে। এর কারণ হিসেবে তারা পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছে, যা অস্থায়ী চুক্তিগুলোকে বারবার দুর্বল প্রমাণ করেছে।
তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কৌশলগত অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি পূর্ণাঙ্গ এবং স্থায়ী সমাধান চাইছে।
দেশটির কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, সংঘাতের কোনো সাময়িক বিরতি নয়, বরং যেকোনো চুক্তিতে অবশ্যই যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিশ্চিত করতে হবে।
ইরানের দেওয়া ১০ দফা পরিকল্পনায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সব ধরনের অর্থনৈতিক ও সামরিক নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা। পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়া বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান এবং যুদ্ধ পরবর্তী পুনর্গঠনের বিষয়গুলোও এই পরিকল্পনায় স্থান পেয়েছে। পশ্চিম ও মধ্য ইরানে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটেই নতুন এই প্রস্তাব সামনে এল।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের একটি অভিযান ব্যর্থ হওয়ার পর তেহরান এখন সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত আলোচনার টেবিলে ইরানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার একটি কৌশল।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প পূর্বের সময়সীমা বাড়িয়েছেন এবং আগের দেওয়া হুমকিগুলো থেকে কিছুটা সরে এসেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি ওয়াশিংটনের দৃষ্টিভঙ্গিতে একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এখন সবার দৃষ্টি ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া এবং প্রস্তাবটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকার দিকে নিবদ্ধ। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নির্ধারিত হবে যে কূটনৈতিক পথগুলো নতুন গতি পাবে নাকি সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করবে।
এনএন/ ৭ এপ্রিল ২০২৬




