যশোর শহরের ঘোপ জেলরোড বাইলেনের মুচিপাড়া রোড (বউবাজার) এলাকায় অনুমোদিত নকশা ছাড়াই বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে সেখানে চারতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও নির্মাণকাজ চলছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ ঘটনায় ভবনটির নির্মাণকাজ বন্ধ ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে এলাকাবাসী যশোর পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণের কারণে আশপাশের বাসিন্দাদের আলো-বাতাস, নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও নাগরিক সুবিধা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি ভবনটি নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভবন নির্মাণের অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই সেখানে নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ দেওয়ার পরও পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে যশোর জেলা বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন কমিটির সদস্য সচিব জাহিদুল ইসলাম জানান, সাততলা পর্যন্ত ভবনের নকশা পৌরসভা অনুমোদন করে। সাততলার বেশি উচ্চতার ভবনের ক্ষেত্রে জেলা বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন হয়। জেলা প্রশাসক এ কমিটির সভাপতি।
তিনি জানান, কমিটিতে এলজিইডি, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি, যশোর বিমানবন্দর, স্থাপত্য অধিদপ্তর ও নগর উন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। আবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে সবকিছু সঠিক থাকলে অনুমোদন দেওয়া হয়।
জাহিদুল ইসলাম আরও বলেন, নকশা অনুমোদনের আগে কোনোভাবেই ভবন নির্মাণের কাজ করা বৈধ নয়।
এদিকে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মুচিপাড়া রোডের ওই এলাকায় অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সেটব্যাক, রাস্তার প্রশস্ততা, অগ্নিনিরাপত্তা ও অন্যান্য কারিগরি বিধিমালা যথাযথভাবে মানা না হলে ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত ভবনটির মালিক বা নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
তাদের দাবি, কোনো ধরনের দুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আগেই বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে অনুমোদিত নকশা, নির্মাণ বিধিমালা ও নিরাপত্তা শর্ত মেনে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে ভবনের দুই অংশীদার ডা. হাদিউজ্জামান ও ডা. সফিউল আলমের বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, অনুমোদিত নকশা এবং প্রযোজ্য কারিগরি ও নিরাপত্তা বিধিমালা অনুসরণ করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের।


