অধ্যাপক ফায়েক উজ্জামান বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গঠিত মুজিবনগর সরকার কোনো অন্তর্বর্তী বা সাময়িক ব্যবস্থা ছিল না; বরং এটি ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সূচনা। ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তীতে এর কার্যক্রম প্রমাণ করে যে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ সরকার হিসেবে কাজ করেছে। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, প্রশাসনিক কাঠামো এবং সামরিক নেতৃত্বের বিষয়গুলো সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত ছিল, যা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের সরকারের বৈশিষ্ট্য বহন করে।
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করা মুজিবনগর সরকারের প্রধান দায়িত্ব ছিল উল্লেখ করে এই অধ্যাপক বলেন, পাশাপাশি প্রশাসনিক কাঠামো গঠন, আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়, অর্থ সংগ্রহ, শরণার্থীদের ব্যবস্থাপনা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ—সবকিছুই একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রের সরকারের মতোই পরিচালিত হয়েছে। যুদ্ধকালীন প্রায় এক কোটি শরণার্থীর খাদ্য, আশ্রয় ও ন্যূনতম সেবার ব্যবস্থা করা এবং সংগঠিতভাবে প্রশিক্ষণ ও সশস্ত্র লড়াই পরিচালনা করা—এসবই সরকারের কার্যকর উপস্থিতির প্রমাণ।
অধ্যাপক ফায়েক উজ্জামান বলেন, কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও এই সরকারের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনমত গঠন, বিদেশে অবস্থানরত বাঙালি কূটনীতিকদের বাংলাদেশের পক্ষে আনুগত্য প্রকাশের আহ্বান এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জনের প্রচেষ্টা—এসব উদ্যোগ একটি সক্রিয় রাষ্ট্রীয় সরকারের বৈশিষ্ট্যই তুলে ধরে। একই সঙ্গে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমে জনমত গঠন এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলন পরিচালনা ছিল সরকারের পরিকল্পিত কার্যক্রমের অংশ।

