এক হাতে স্টেনগান, অন্য হাতে ক্যামেরা—মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে একই সঙ্গে অস্ত্র ও ক্যামেরা নিয়ে লড়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও ফটোসাংবাদিক এস এম সফি। একদিকে গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে শত্রুর মোকাবিলা, অন্যদিকে যুদ্ধের ভয়াবহতা ও বীরত্বের মুহূর্তগুলো ক্যামেরায় ধারণ করে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল রেখে গেছেন তিনি।
১৯৩৪ সালের ১০ আগস্ট যশোর শহরের চুড়িপট্টিতে জন্মগ্রহণ করেন এস এম সফি। শৈশবে ভারতের জলপাইগুড়িতে একটি স্টুডিওতে কাজ করার সময় হাতে তুলে নেন ক্যামেরা। ১৯৬২ সালে দেশে ফিরে যশোরে স্থায়ী হন। পরের বছর শহরের রেল রোডে প্রতিষ্ঠা করেন ‘ফটো ফোকাস’ স্টুডিও।
মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পাঁচ শতাধিক ছবি তোলেন। এসব ছবিতে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসরদের নৃশংসতা, যুদ্ধক্ষেত্রের নানা ঘটনা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের চিত্র উঠে এসেছে। যুদ্ধে তার স্ত্রীও সহযোদ্ধা হিসেবে অংশ নেন।
যুদ্ধের পর ১৯৭৪ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে তার আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৬ সালে প্রকাশিত হয় তার মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্রের অ্যালবাম ‘আলোকচিত্রে একাত্তর’। এর আগে ১৯৯৭ সালের ১০ আগস্ট ৬৩ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৬ সালে ঢাকায় জাতীয় সংবর্ধনা পান এস এম সফি। ‘চেতনা’সহ বিভিন্ন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
তার ক্যামেরায় ধারণ করা মুক্তিযুদ্ধের মুহূর্তগুলো আজও একাত্তরের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ আলোকচিত্র দলিল হয়ে আছে।

