মোহাম্মদ সেলিম
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের মামাসার এলাকায় সেতু নির্মাণে দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই এলাকায় মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার এলজিইডির অধীনে ২টি সেতু নির্মাণের কাজ বর্তমানে চলছে। কিন্তু সেতু নির্মাণে এখানে চলছে লাগাতার দুর্নীতি ও অনিয়ম। এমনটি অভিযোগ উঠেছে গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে।
এখানে চলমান কাজে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ কয়েকটি অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় হাতে নাতে প্রমাণ পাওয়া সেইসব কাজ ইতোমধ্যে বন্ধ করে দিয়েছে। সেইসব কাজ এখন ঠিকাদারকে আবার নতুন করে করতে হচ্ছে বলে জানা গেছে এলজিইডি সূত্র থেকে।
বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের চুড়াইন এলাকার পশ্চিমের গ্রাম হচ্ছে মামাসার গ্রাম। মামাসার গ্রাম হচ্ছে এই উপজেলার শেষ সীমান্তের একটি গ্রাম। এর পরপরই শুরু হবে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার সীমানা। মামাসার বাজারের পরেই রাস্তার ডানপাশের খালের পশ্চিমে ও পূর্বে এলাকাটিতে নির্মিত হচ্ছে ২টি সেতু।
এর মধ্যে ঢাকা হেড অফিসের এলজিইডি অফিসে কর্মরত একজন প্রকৌশলীর বাড়িতে যাওয়ার রাস্তাটিতে ২টি সেতুর মধ্যে একটি সেতু নির্মাণ কাজ চলছে। এটি হচ্ছে পূর্ব এলাকার সেতু। এই সেতুতে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ সেতু নির্মাণে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ গ্রাম থেকে উঠলেও ইতোমধ্যে সেতুর কাজ প্রভাবশালী ঠিকাদার নির্মাণ কাজ শেষ করে এনেছেন বলে জানা গেছে।
গ্রামবাসীরা নানা রকম অভিযোগ করলেও সেতু নির্মাণে ঠিকাদার কোনভাবেই অভিযোগের বিষয়গুলো পাত্তা দেয়নি বলে জানা গেছে। রোজার ঈদের বড় বন্ধের মধ্যে এ সেতু নির্মাণে সবচেয়ে বড় ধরণের দুর্নীতি ও অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
পরে এ ঘটনাটি এখানে এলজিইডির দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তার চোখে ধরা পরে। তখন তারা এ সেতুর সাথে জড়িত কিছু অংশের কাজ বন্ধ করে দেন। সেই কাজে বেশির অংশে দুর্নীতি ও অনিয়ম করা হয়ে ছিল বলে জানা গেছে। সেই কাজে দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় সেই কাজের অংশের মালামাল প্রমাণ হিসেবে সেতু এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
সেইসব কাজে সেখানে সিমেন্টের পরিবর্তে বেশিরভাগ কাজের অংশেই মাটি ব্যবহার করা হয়েছে বলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে জোর অভিযোগ উঠেছে। তারপরেও এখানকার ঠিকাদার দুর্নীতি ও অনিয়ম থেকে কোনভাবেই ফিরে আসেননি বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে এই সেতুর কাজের সাথে জড়িত অংশের ব্লক নির্মাণে দুর্নীতি ও অনিয়ম করেন।
তখন মিডিয়ার উপস্থিততে প্রায় ৭৫টি ব্লক বাতিল করেন এলজিইডির এখানকার দায়িত্ব প্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন। এ সময় এখানে আরো উপস্থিত ছিলেন আরেকজন সহকারী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম। বাতিল ব্লকগুলোতে ক্রস চিহ্ন দেন তারা।
সহকারী প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন বলেন, এ সেতুর নিচের অংশেও ঠিকাদার দুর্নীতি ও অনিয়ম করেছেন। সেটিতেও আমরা আপত্তি জানিয়েছি। কিন্তু এখানে এটিতে নানা রকমের ঘটনা ঘটলেও ঠিকাদার এখন বেপরোয়া হয়ে এখানে কাজ করছেন।
এখানে এই সেতু নির্মাণের ঠিকাদার হচ্ছেন মোঃ শাহাদাৎ হোসেন। তিনি বলেন, এখানে কোন ধরণের অনিয়ম বা দুর্নীতির ঘটনা ঘটেনি সেতু নির্মাণে।