মহেশখালীর বৃহৎ পাঁচ ইউনিয়ন ভেঙে নতুন ইউনিয়ন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু – দৈনিক আজাদী

মহেশখালীর বৃহৎ পাঁচ ইউনিয়ন ভেঙে নতুন ইউনিয়ন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু – দৈনিক আজাদী

মহেশখালী উপজেলার বড় আয়তন ও বিপুল জনসংখ্যা অধ্যুষিত বৃহত্তর ৫টি ইউনিয়নকে ভেঙে নতুন আরো ৫টি ইউনিয়ন গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। মহেশখালীকুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের দেওয়া এক চিঠির (ডিও লেটার) প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে উপজেলার মাতারবাড়ি, কালারমার ছড়া, হোয়ানক, বড় মহেশখালী ও শাপলাপুরএই ৫টি ইউনিয়ন বিভাজন করে নতুন ইউনিয়ন গঠনের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসককে (ডিসি) নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। গত বুধবার (১৩ মে) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের (ইউপি১ শাখা) উপসচিব জিয়াউর রহমান স্বাক্ষরিত এক পত্রে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠি সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল (২০২৬) কঙবাজার২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ নিজ নির্বাচনী এলাকার বৃহৎ ইউনিয়নগুলো ভেঙে নতুন ইউনিয়ন গঠনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে একটি ডিও পত্র প্রেরণ করেন। এমপির ওই পত্রের আলোকেই মন্ত্রণালয় এই প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের আদেশে প্রস্তাবিত নতুন ইউনিয়ন গঠনের বিষয়ে সরেজমিন অনুসন্ধান করে ৫টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে মতামতসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠাতে কঙবাজারের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানতে চাওয়া বিষয়গুলো হলোপ্রস্তাবিত নতুন ইউনিয়নগুলোর নাম কী হবে; নতুন ইউনিয়নগুলোর সম্ভাব্য সীমানা এবং মৌজাভিত্তিক বিভাজন; প্রতিটি ইউনিয়নের জনসংখ্যা, ভোটার সংখ্যা এবং বিভাজনের প্রশাসনিক যৌক্তিকতা; ইউনিয়ন বিভাজনের বিষয়ে স্থানীয় জনগণ এবং জনপ্রতিনিধিদের মতামত এবং ইউনিয়নগুলো ভাগ করা হলে এর প্রশাসনিক ও আর্থিক কী প্রভাব পড়বে।

স্থানীয়দের মতে, মহেশখালীর কালারমার ছড়া, মাতারবাড়ি বা শাপলাপুরের মতো ইউনিয়নগুলো ভৌগোলিক ও জনসংখ্যার দিক থেকে অনেক বড়। ফলে একটি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষকে কাঙ্‌ক্িষত সেবা দিতে জনপ্রতিনিধিদের হিমশিম খেতে হয়। সাধারণ মানুষকেও ছোটখাটো কাজের জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হয়।

প্রশাসনিক এই আদেশের বিষয়ে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, ইউনিয়ন বিভাজন সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের চিঠির অনুলিপি আমরা পেয়েছি। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা খুব শিগগিরই এ বিষয়ে মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু করব। প্রস্তাবিত ইউনিয়নগুলোর সীমানা, জনসংখ্যা ও যৌক্তিকতা যাচাইয়ের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনগণের মতামত গ্রহণ করে একটি বস্তুনিষ্ঠ ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হবে।

এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণকারী সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ দৈনিক আজাদীকে বলেন, বিশাল আয়তনের কারণে এই ইউনিয়নগুলোর প্রান্তিক মানুষ দীর্ঘ দিন ধরে কাঙ্‌ক্িষত সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ইউনিয়নগুলো ভেঙে ছোট করার। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং এলাকার সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতেই আমি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিলাম। মন্ত্রণালয় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় আমি সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানাই। নতুন ইউনিয়নগুলো গঠিত হলে প্রশাসনিক কাজে গতি আসবে এবং এলাকার দৃশ্যপট পাল্টে যাবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসকের এই তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা হওয়ার পর যাচাইবাছাই শেষে নতুন ইউনিয়নগুলোর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশিত হবে। দীর্ঘদিনের জনদাবি পূরণের এই প্রক্রিয়ায় মহেশখালীর সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও স্বস্তি দেখা দিয়েছে।

Explore More Districts