মরুর কলস ও করুণার দজলা

কোনো মরুচারীর মুখে প্রচারিত লোকগল্প নয়। প্রায় আট শ বছর আগে আনাতোলিয়ার এক আধ্যাত্মিক কবি তাঁর লেখা ‘মসনভি’র পরতে পরতে এসব গল্পের লোভনীয় দানা ছিটিয়েছেন। অনুসন্ধিৎসু কবুতরের মতো দানা মুখে নিয়ে অগ্রসর হলেই অজান্তে উন্মোচিত হয় আত্মদর্শনের নব নব দ্বার।

তিনি আর কেউ নন।

তিনি জালালুদ্দিন মুহাম্মদ রুমি।

এই গল্প নিছক কোনো কাহিনি নয়। আমরাই সেই গল্পের বেদুইন। আমাদের আছে হৃদয়ের সীমিত কলস। আর সৃষ্টিজগতের বাদশাহর আছে করুণার দজলা নদী। আমাদের হৃদয়ের কলসের কিঞ্চিৎ পানি হচ্ছে আন্তরিক ভালোবাসা, ভক্তি।

অসীমের সামনে সীমিত পাত্র যদি ভক্তির জলে পূর্ণ করে উপস্থাপন করা যায়, তবেই করুণার দজলার অচেনা পথের সন্ধান মেলে।

আমাদের সবারই যাত্রা যেন সেই বেদুইনের পথ ধরে—ছোট্ট একটি কলস হাতে, দজলার অভিমুখে।

সূত্র: জালালুদ্দিন মুহাম্মদ রুমি, মসনভি-ই মা‘নভি, প্রথম খণ্ড, বেদুইন ও বাদশাহর কাছে পানির কলস উপহারের কাহিনি, পঙ্‌ক্তি ২৮৪৮-২৮৭২।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্ধৃতি: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ‘দুরন্ত আশা’, মানসী।

Explore More Districts