পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র
সেরা চলচ্চিত্র
জয়া আর শারমিন, পিপলু আর খান ও জয়া আহসান
জয়া আর শারমিন একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে তৈরি চলচ্চিত্র। ছবিটি দর্শক দেখবে কি দেখবে না, ছবির বিচারে কেমন হলো—এসব বিবেচনা করে কাজটি করা হয়নি। শুধু একটি অনুভূতি প্রকাশের জন্যই ছবিটি তৈরি করা হয়েছিল। এই ছবির মাধ্যমে একজন মেধাবী অভিনেত্রী মোহসিনা আক্তারকে চলচ্চিত্রে নিয়ে আসতে পেরেছি—প্রযোজক হিসেবে এটা একটা সফলতাই বলব। আমাদের ছবিটিকে সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ায় ধন্যবাদ।
বাড়ির নাম শাহানা, আরিফুর রহমান
যখন বাংলা চলচ্চিত্রের ভালো সময় যাচ্ছে, তখন এই খুশির খবর পেলাম। আমাকে এটা অনেক অনুপ্রাণিত করেছে। দর্শকের জন্য ভালো কাজ করার চেষ্টা করছি। এক যুগের বেশি সময় নিজেকে তৈরি করেছি। এ বছর আরও একটি ছবির কাজ শুরু করেছি। কাজটির জন্য মনোনীত হয়ে আমি আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। সবার দোয়া ও ভালোবাসা চাই।
সাবা, আরিফুর রহমান
মনোনয়ন পেয়ে খুবই ভালো লাগছে। নির্মাণের সময় আমি নজর দিয়েছিলাম যেন ছবিটি আন্তর্জাতিক মানের হয়। আমরা সেই চেষ্টা করেছি। মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারে মনোনয়ন পেয়ে আমার মনে হচ্ছে, আমাদের সেই চেষ্টাটা সফল হয়েছে।
সেরা পরিচালক
জোবায়দুর রহমান, উড়াল
উড়াল আমার প্রথম সিনেমা। পরিচালক হিসেবে আমার অভিষেক। আমাদের টিমের প্রায় প্রত্যেক সদস্যের কাছেই উড়াল ছিল যাঁর যাঁর জায়গা থেকে প্রথম সিনেমার অভিজ্ঞতা। মেরিল-প্রথম আলো সমালোচক পুরস্কারে চলচ্চিত্রটির জন্য সেরা পরিচালক হিসেবে মনোনয়ন পাওয়া সত্যিই ভীষণ সম্মান ও আবেগের। উড়াল টিমের প্রতিটি সদস্যের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ, আমার ওপর তাঁরা বিশ্বাস রেখেছিলেন। একই সঙ্গে শ্রদ্ধা জানাই মনোনীত দুই গুণী নির্মাতা পিপলু আর খান ও মাকসুদ হোসেনের প্রতি।
পিপলু আর খান, জয়া আর শারমিন
জয়া আর শারমিন নিরীক্ষাধর্মী চলচ্চিত্র। এটি হয়তো খুব কমসংখ্যক দর্শকের কাছে পৌঁছেছে। জুরিরা এই ছবিকে যে নোটিশ করেছেন, এটা খানিকটা আনন্দের বিষয়, খানিকটা আশ্চর্যের বিষয়। আমি বিস্মিত। জুরিদের ধন্যবাদ জয়া আর শারমিন–এর মধ্যে কিছু একটা খুঁজে পাওয়ার জন্য, আমাকে মনোনীত করার জন্য।
মাকসুদ হোসেন, সাবা
সমালোচকদের রায়ে সাবা সেরা চলচ্চিত্র, সেরা পরিচালক ও সেরা অভিনেত্রী—এই তিন ক্যাটাগরিতে মেরিল–প্রথম আলো পুরস্কার ২০২৫–এ মনোনয়ন পেয়েছে। এটা আমার জন্য ভীষণ আনন্দের ও সম্মানের। সম্মানিত জুরিবোর্ডের প্রত্যেকের প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা। একই সঙ্গে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই প্রথম আলোকে। এই মনোনয়ন আমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে, আমি যে গল্পগুলো বলতে চাই, মানুষের কাছে তা পৌঁছাচ্ছে। একজন নির্মাতা হিসেবে এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছু নেই। এই স্বীকৃতি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে যেমন অনুপ্রাণিত করেছে, তেমনি পুরো টিমের পরিশ্রমকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে।
সেরা অভিনেত্রী
জাকিয়া বারী মম, অন্ধকারের গান
মনোনয়ন পেয়ে খুব ভালো লাগছে। আমাদের কাজটির পরিচালক ভিকি জাহেদ ও তাঁর টিম খুবই গোছানো। তাঁর পরিচালনায় কাজ করার অভিজ্ঞতা দারুণ। মূলত এই কাজ জীবনের কথা বলে। চরিত্র ও গল্পের মধ্যে মানুষ নিজের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পায়। রুমালি চরিত্রটি দর্শক পছন্দ করেছেন, এটাই বড় পাওয়া। নাটকের সহশিল্পী হিসেবে মনিরা মিঠু আপা ও মোশাররফ করিম ভাইকে পাওয়াটাও দারুণ অভিজ্ঞতা ছিল।
জয়া আহসান, ফেরেশতে
ফেরেশতে একটি ইরানি-বাংলা ফিল্ম। এই ছবির জন্য সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন পেয়ে সত্যি ভালো লাগছে। এই ছবির একজন প্রযোজকও আমি। এ জন্য আরও বেশি ভালো লাগছে।
মেহজাবীন চৌধুরী, সাবা
জুরিদের কাছ থেকে এই স্বীকৃতি পাওয়া আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের। কারণ, তাঁরা কাজটাকে খুব কাছ থেকে টেকনিক্যাল ও পারফরম্যান্স সবদিক বিবেচনা করে মূল্যায়ন করেন। সাবা আমার জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং একটি চরিত্র ছিল। আর সেই পরিশ্রমটা যখন এভাবে স্বীকৃতি পায়, তখন ভীষণ ভালো লাগে। এটা আমাকে আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়।
সেরা অভিনেতা
কামরুজ্জামান কামু, আমলনামা
অভিনেতা হিসেবে এই মনোনয়ন আমার জন্য সত্যিই অপ্রত্যাশিত ও আনন্দের। নিজেকে আসলে অভিনেতা হিসেবে দেখি না। আমলনামাতে কাজটা করেছি মূলত গল্পের ভেতরে ঢুকে, চরিত্রটির সঙ্গে একধরনের ব্যক্তিগত সংযোগ অনুভব করে। সেই জায়গা থেকে কাজটি আমার কাছে ছিল অনেকটা অভিজ্ঞতার মতো, পরিকল্পিত অভিনয়ের মতো নয়। জুরিদের এই স্বীকৃতি আমাকে বিস্মিত করেছে এবং একই সঙ্গে কৃতজ্ঞ করেছে। নির্মাতা, সহশিল্পী ও পুরো টিমের আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া এই কাজ সম্ভব হতো না। এই মনোনয়নকে আমি ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে না দেখে; বরং পুরো টিমের সম্মিলিত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবেই দেখছি।
মনোজ প্রামাণিক, অমীমাংসিত
আমি যত ধরনের কাজ করেছি, তার মধ্যে অমীমাংসিতর চরিত্রটি ভিন্ন। পরিচালক চরিত্রটিকে সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। আশা করিনি মনোনয়ন পাব। তবে চরিত্রটি মনোনয়ন পাওয়ার মতো। মনোনয়ন পেলে একটা চাপ কাজ করে। বন্ধু, পরিবার সবার প্রত্যাশা বেড়ে যায়। দেখা যাক, আশা করি যা হবে ভালো হবে।
মাহাফুজ মুন্না, উড়াল
অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি মেরিল–প্রথম আলো পুরস্কার ২০২৫–এর আয়োজক ও সম্মানিত জুরিদের প্রতি। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে মনোনীত হয়েছি, এ অনুভূতি অদ্ভুত ও অসাধারণ। প্রথমবার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে প্রথম চলচ্চিত্রেই সমালোচক ক্যাটাগরিতে নমিনেশন পাওয়াটা আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের। আমি আমার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্য, আমার সব সময়ের অনুপ্রেরণা মরহুমা মা, আমার বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ী, সেই সঙ্গে উড়াল চলচ্চিত্রের প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার পরিচালকসহ পুরো টিমের প্রতি কৃতজ্ঞ। সবার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল আমাদের উড়াল। সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি।
শান্ত চন্দ্র সূত্রধর, উড়াল
অভিনয়জীবনে আমার প্রথম চলচ্চিত্র উড়াল, প্রথম কাজেই মেরিল-প্রথম আলো সমালোচক পুরস্কার ২০২৫-এ সেরা অভিনেতা বিভাগে মনোনয়ন—এটি সত্যিই আমার কল্পনারও বাইরে ছিল। ছোটবেলায় যখন টেলিভিশনে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের অনুষ্ঠানটি দেখতাম, তখন আনমনে ভাবতাম, ‘ইস! যদি কোনো দিন এমন একটি মঞ্চে দাঁড়ানোর সুযোগ পেতাম!’ আজ মনে হচ্ছে, স্রষ্টা হয়তো সেই স্বপ্নের দুয়ারটাই খুলে দিয়েছেন। আমি কৃতজ্ঞ সম্মানিত জুরিবোর্ডের প্রতি, দর্শকদের প্রতি এবং উড়াল টিমের প্রতি, যাঁদের ভালোবাসা ও সমর্থন ছাড়া এ অর্জন সম্ভব হতো না। এই স্বীকৃতি আমাকে ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা দেবে।