বিশ্বকাপের উত্তেজনায় যখন মগ্ন ফুটবলপ্রেমীরা, ঠিক তখনই এক হৃদয়বিদারক সংবাদ নেমে এসেছে ফুটবল অঙ্গনে। ভয়াবহ ভূমিকম্পে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হারিয়েছেন আর্জেন্টাইন পেশাদার ফুটবলার লুকাস ত্রেহো। টানা ৭৪ ঘণ্টার অনুসন্ধানের পর ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তার পরিবারের সদস্যদের মরদেহ।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকাহত হয়ে পড়েছে ফুটবল বিশ্ব। সহকর্মী, সমর্থক এবং বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এই ফুটবলারের প্রতি।
১৯৮৭ সালে আর্জেন্টিনার কর্ডোবা শহরে জন্ম নেওয়া ত্রেহো দীর্ঘ ফুটবল ক্যারিয়ারে আর্জেন্টিনা, স্পেন ও গ্রিসের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন। গত এক দশক ধরে তিনি ভেনিজুয়েলার বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে মাঠ মাতিয়ে আসছিলেন। বর্তমানে তিনি মারিতিমো দে লা গুয়াইরা ক্লাবের হয়ে খেলছেন।
দীর্ঘদিন ভেনিজুয়েলায় বসবাসের কারণে সেখানেই গড়ে তুলেছিলেন নিজের পরিবার ও সংসার। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু বদলে যায় ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে।
গত ২৪ জুন ভেনিজুয়েলার লা গুয়াইরা অঞ্চলে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানে। সে সময় ত্রেহো ক্লাবের ম্যাচ খেলতে রাজধানী কারাকাস শহরে অবস্থান করছিলেন। অন্যদিকে তার স্ত্রী ইয়ানিনা মারানেল্লা এবং দুই সন্তান আরন ও আইনহোয়া নিজেদের অ্যাপার্টমেন্টে ছিলেন। ভূমিকম্পের আঘাতে ভবনটি ধসে পড়লে তারা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন।
পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন আবেদন জানান ত্রেহো। তিনি সবার কাছে স্ত্রী ও সন্তানদের খোঁজ দিতে অনুরোধ করেন এবং তাদের জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানান। সেই আবেদন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ফুটবল অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যেও।
এরপর আত্মীয়-স্বজন, সতীর্থ, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক এবং উদ্ধারকর্মীদের নিয়ে শুরু হয় মরিয়া অনুসন্ধান অভিযান। দিনের পর দিন আশার আলো খুঁজে ফিরলেও শেষ পর্যন্ত আসে দুঃসংবাদ। শনিবার রাতে ধ্বংসস্তূপ থেকে তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনিজুয়েলায় উদ্ধার তৎপরতা এখনও চলছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্যোগে হাজারো মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করতে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
লুকাস ত্রেহোর ব্যক্তিগত জীবনের এই অপূরণীয় ক্ষতি শুধু তার পরিবারকেই নয়, নাড়া দিয়েছে গোটা ফুটবল বিশ্বকে। বিশ্বকাপের আনন্দঘন মুহূর্তেও এই শোকাবহ ঘটনা মনে করিয়ে দিয়েছে, জীবনের সবচেয়ে বড় ম্যাচ কখনও কখনও মাঠের বাইরেই লড়তে হয়।
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com

