দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
ভারত–বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে আবারও বড় পরিমাণ ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে। চলতি এপ্রিল মাসে তৃতীয় দফায় ভারতের আসাম থেকে প্রায় ৭ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে প্রবেশ করছে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে।
সবকিছু ঠিক থাকলে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার মধ্যে চালানটি দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ওয়েল ডিপোর রিসিপ্ট টার্মিনালে পৌঁছাবে। ভূগর্ভস্থ এই পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি জ্বালানি আসায় উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় তেলের সরবরাহ আরও স্থিতিশীল ও নিরবচ্ছিন্ন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (অপারেশন্স) কাজী রবিউল আলম জানান, গত সোমবার রাত ৮টা থেকে ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে ডিজেল পাম্পিং শুরু হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ ঘণ্টা সময় লাগবে, এরপর তেল পার্বতীপুরে এসে পৌঁছাবে। পরবর্তীতে এই জ্বালানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা—এই তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন কোম্পানির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিতরণ করা হবে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি এপ্রিল মাসে পাইপলাইনের মাধ্যমে মোট ডিজেল আমদানির পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। এর আগেই ১১ এপ্রিল ৮ হাজার টন এবং ১৯ এপ্রিল ৫ হাজার টন ডিজেল দেশে এসেছে। সব মিলিয়ে শুধু এপ্রিল মাসেই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রায় ২৫ হাজার টন ডিজেল আমদানি সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত চারটি পৃথক চালানে আরও ২২ হাজার টন ডিজেল ভারত থেকে আসে। ফলে ২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট পাইপলাইন-আমদানি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টন ডিজেল।
প্রকল্পের পটভূমি
২০১৮ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির ভিত্তিতে ভারত–বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়। প্রায় ১৩১.৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ভূগর্ভস্থ পাইপলাইনের মাধ্যমে ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিজেল আমদানি শুরু হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, ভারত আগামী ১৫ বছর বাংলাদেশে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ করবে। বর্তমানে বছরে প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির সক্ষমতা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে চাহিদা অনুযায়ী আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
আগে উত্তরাঞ্চলের ডিপোগুলোতে চট্টগ্রাম বা খুলনা থেকে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে ডিজেল পরিবহন করতে প্রায় ৬–৭ দিন সময় লাগত। পাইপলাইন চালুর ফলে সেই সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। একই সঙ্গে পরিবহন ব্যয়ও কমেছে, ফলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও অর্থনৈতিক হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পাইপলাইন প্রকল্প শুধু জ্বালানি নিরাপত্তাই নয়, বরং লজিস্টিক ব্যবস্থাপনায় একটি বড় অগ্রগতি। এতে পরিবহন ঝুঁকি কমেছে, সরবরাহ দ্রুত হয়েছে এবং উত্তরাঞ্চলের শিল্প ও কৃষি খাতে জ্বালানি সংকট অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে।
সব মিলিয়ে, ভারত থেকে পাইপলাইনে ধারাবাহিকভাবে ডিজেল আমদানি দেশের জ্বালানি খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


