ছোট–বড় নানা ধরনের মোটিফের ব্লক নিজে নকশা করে তৈরি করিয়ে নিতেন। ডিজাইনার এমদাদ হকও ব্লক নিয়ে কাজ করেছেন। নকশার ক্ষেত্রে তাঁর স্বকীয়তা ছিল।
নব্বইয়ের দশকে আমাদের ফ্যাশন হাউসগুলো মূলত জমিন অলংকরণের মাধ্যম হিসেবে ব্লক প্রিন্টই ব্যবহার করেছে। আড়ং ছাড়াও কে ক্র্যাফট, অঞ্জনসসহ অনেক ব্র্যান্ডই ছিল এই ধারার অনুসারী।
একটা কথা না বললেই নয়, তাঁতে বোনার সময় নকশা করা শাড়ির বাইরে গজ কাপড় কিনে জমিন অলংকরণ করা বা তাঁতে বোনা প্লেন শাড়ি কিনে তাতে নকশা করার যে চল পটুয়া কামরুল হাসান শুরু করেছিলেন, সেই ট্র্যাডিশনকেই অব্যাহত রাখেন আমাদের ফ্যাশন হাউস ও ডিজাইনাররা।
মাঝে কিছুটা মন্দা সময় গেলেও বর্তমানে এই ধারা আরও বলশালী হয়েছে। তবে মর্ডান্ট হিসেবে সবাই যে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে, তা কিন্তু নয়। অনেকেই রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে রংকে উজ্জ্বল করেন। আজকের দিনে ঢাকার বিভিন্ন ডিজাইন হাউস ও নারী উদ্যোক্তারা ব্লক প্রিন্টকে নতুনভাবে তুলে ধরছেন।
শাড়ি, কুর্তি, ওড়না, বেড কভার, পর্দা ও কুশন কভারে। নকশিকাঁথা, পল্লিপ্রকৃতি, আলপনা ইত্যাদি দেশীয় মোটিফকে ব্লক প্রিন্টের মাধ্যমে নতুনভাবে তুলে ধরছেন বাংলাদেশের তরুণ ডিজাইনাররা। এতে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটছে। অনেকে আজকাল রোড ব্লক ব্যবহার করেও চমৎকার সব কাজ করছেন। অনেকে থিমেটিক কাজও করছেন।
শুরুর দিকে ব্লক প্রিন্ট বা বাটিকের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ব্যবস্থা ছিল না। বর্তমানে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক), যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও বিভিন্ন মহিলাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান এ শিল্পের প্রশিক্ষণ প্রদান করে এটিকে আরও জনপ্রিয় ও বাণিজ্যিক রূপ দিয়েছে।

