দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর মরাঘাটে বৈরাগী খালের ওপর নির্মিত নতুন আরসিসি ব্রিজটি এক স্বপ্নপূরণেরও গল্প, আবার অপূর্ণতারও। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা আর দাবির পর অবশেষে ৩৩ লাখ টাকারও বেশি ব্যয়ে নির্মিত এই ব্রিজটি আজ বাস্তব; দৃশ্যমান উন্নয়নের এক স্পষ্ট চিহ্ন। কিন্তু সংযোগ সড়কের অভাবে এখনো এর পূর্ণ সুফল থেকে বঞ্চিত এলাকাবাসী।
গ্রামবাসীর চোখে এই ব্রিজ শুধু একটি স্থাপনা নয়—এটি ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি। একসময় যেখানে বর্ষায় খাল পাড়ি দিতে ভোগান্তির শেষ থাকত না, সেখানে এখন দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে একটি সেতু, যা সংযোগের অপেক্ষায়।
স্থানীয়দের ভাষায়, “ব্রীজ তো হয়েছে, এখন শুধু রাস্তার অপেক্ষা।” তাদের বিশ্বাস, সংযোগ সড়ক নির্মাণ হলেই বদলে যাবে পুরো এলাকার চিত্র। কৃষকরা সহজেই তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে পারবেন, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত হবে নির্বিঘ্ন, আর জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত হবে।
এই ব্রিজ যেন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে—এখন দরকার শুধু সেই দরজায় পৌঁছানোর পথ তৈরি করা। এলাকাবাসী আশাবাদী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নেবে এবং খুব শিগগিরই এই অসম্পূর্ণ উন্নয়ন পূর্ণতা পাবে। তখন এই ব্রিজ আর ‘অপেক্ষার প্রতীক’ থাকবে না, হয়ে উঠবে সত্যিকারের উন্নয়নের সেতুবন্ধন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে ৯.১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি নির্মাণ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মামুন অ্যান্ড ব্রাদার্স।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বৈরাগী খালের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা ব্রিজটি যেন এক অসম্পূর্ণ গল্প—সম্ভাবনায় ভরা, কিন্তু এখনো পূর্ণতা পায়নি। দুই প্রান্তে নেই কোনো সংযোগ সড়ক, ফলে চোখের সামনে উন্নয়নের অবকাঠামো থাকলেও তা ব্যবহার করতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। চারপাশে সবুজ জমি, নীরব খাল আর মাঝখানে একা দাঁড়িয়ে থাকা ব্রিজটি যেন প্রতিদিনই অপেক্ষা করছে মানুষের পদচারণার জন্য।
জানা গেছে, ব্রিজের দুই পাশেই রয়েছে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি, যা সড়ক নির্মাণে কিছুটা জটিলতা তৈরি করেছে। তবে এলাকাবাসী এটিকে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন না। তাদের বিশ্বাস, সমন্বিত উদ্যোগ আর সদিচ্ছা থাকলে খুব দ্রুতই জমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান সম্ভব।
গ্রামের ভ্যান চালক আলমগীর হোসেন ভুইয়া বলেন, তাদের স্বপ্নের মধ্যেও ছিল না এই বৃজ। সেটা হয়েছে এখন তার প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সংযোগ সড়ক নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহন করুক।
সরেজমিনে দেখা গেছে, খালের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ব্রিজটি যেন একটি অসম্পূর্ণ গল্পের মতো—দুই পাশে এখনো নেই কোনো সংযোগ সড়ক। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির কারণে সড়ক নির্মাণে জটিলতা থাকলেও, স্থানীয়দের প্রত্যাশা—শিগগিরই এই সমস্যার সমাধান হবে।
এলাকাবাসীর মতে, এই ব্রিজটি যদি যথাযথ সংযোগ সড়কের মাধ্যমে যুক্ত করা যায়, তবে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচল অনেক সহজ হবে। এতে পুরো এলাকার অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।



