বেরোবির বাস মেরামতে ২৮ লাখ টাকা ব্যয়, মাছের খাবারে দেড় লাখ বরাদ্দ নিয়ে ক্ষোভ

বেরোবির বাস মেরামতে ২৮ লাখ টাকা ব্যয়, মাছের খাবারে দেড় লাখ বরাদ্দ নিয়ে ক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার ।

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত একটি বাস মেরামতে প্রায় ২৮ লাখ টাকা ব্যয় করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মেরামতের কাজে বিপুল অর্থ ব্যয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাংলোর পুকুরে মাছ ও প্রাণীর খাদ্য বাবদ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অস্বাভাবিক এসব ব্যয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদেও মাঝে ক্ষোভ দেয়া দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় জানা গেছে, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস মেরামতের জন্য ফ্রেন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপকে দেয়া হয়। বাসে ব্যয় বাবদ ২৭ লাখ ৯৯ হাজার টাকা পরিশোধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর আগে বাসটি মেরামতের জন্য পত্রিকায় দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। প্রায় ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস মেরামতের বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ২৮ লাখের সাথে আরও কিছু টাকায় যুক্ত করলে একটি নতুন বাস পাওয়া যেত। এত টাকা খরচ করে বাস মেরামতের কোনো যুক্তি নেই। বাসটি মেরামতে প্রকৃতপক্ষে কত খরচ হয়ে তা তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ে এমনিতে পরিবহন সংকট রয়েছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত ব্যয় এসব মেনে নেয়া কষ্টকর। এখানে স্পষ্ট দুর্নীতি হয়েছে। বিষয়টির সঠিকক তদন্ত হওয়া উচিত।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের পরিচালক মাসুদ রানা বলেন, বাসটি একেবারে অকেজো হয়ে পড়েছিল। সেটিকে নতুনভাবে তৈরী করা হয়েছে। তাই বেশি খরচ মনে হচ্ছে। কাজটি কমিটির মাধ্যমে হয়েছে। উপাচার্য কমিটি করে দিয়েছেন। কমিটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়। এরপর যারা সর্বনিম্ন দরপত্র দিয়েছে, তাদেরই কাজটি দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে উপাচার্যের বাংলোর পুকুরে মাছ ও প্রাণীর খাদ্য বাবদ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হয়েছে। তবে বিষয়টি সত্য নয় বলে দাবি করেছে কর্তৃৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখার সরকারি হিসাব বিবরণী পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ওই অর্থবছরে সংশ্লিষ্ট খাতে বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তবে প্রকৃত ব্যয় হয়েছে মাত্র ২৮ হাজার ৪৫০ টাকা। ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অর্থবছরে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। তবে বরাদ্দের পুরো অর্থ ব্যয় করা হয়নি। চারটি ভাউচারের মাধ্যমে ওই খাতে মোট ২৮ হাজার ৪৫০ টাকা ব্যয় হয়েছে। মাছের খাবারে এত বরাদ্দ নিয়েও শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ রয়েছে।

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

Explore More Districts