বেরোবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে আহত ১০, থমথমে পরিস্থিতি

বেরোবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে আহত ১০, থমথমে পরিস্থিতি

বেরোবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে আহত ১০, থমথমে পরিস্থিতি

স্টাফ রিপোর্টার।

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল শিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে এতে উভয়পক্ষের আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। ঘটনার সূত্রপাত হয় আওয়ামী আমলে যুদ্ধাপরাধ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মৃতুদণ্ডপ্রাপ্ত নেতাদের ছবি সংবলিত টানানো একটি ব্যানার নিয়ে। তবে মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে  । আহত ১০ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিস্থিতি শান্তর কথা বললেও এখনো থমথমে পরিস্থিতি রয়েছে সেখানে।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রশাসনের অনুমতিতে সকাল থেকেই ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক এলইডি স্ক্রিনে ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীসহ জুলাই ও বিগত সময়ে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ব্যানার ফেস্টুন প্রদর্শন করছিল বেরোবি শাখা ছাত্রশিবির।
তবে, একটি ফেস্টুনে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা কাদের মোল্লা, মতিউর রহমান নিজামী, দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, মীর কাশেম আলীসহ বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ছবি ছিল। ছাত্রদল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ওই ফেস্টুন সরানোর দাবিতে প্রোগ্রামস্থলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে চেয়ার ও ইটপাটকেল ছোড়া হলে লাঠিসোটা নিয়ে পাল্টা ধাওয়া দেয় শিবিরের নেতাকর্মীরা। দফায় দফায় চলে আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ। এই পরিস্থিতি চলতে থাকে রাত সাড়ে বারোটা পর্যন্ত। মুখোমুখি অবস্থান নেয় দুই পক্ষই। পরিস্থিতি মোকাবেলায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এসময় আহত হন বেরোবি শাখা শিবিরের সাবেক সভাপতি সোহেল রানা, বর্তমান সেক্রেটারি ইমরান খান সৌরভ, শিবির সমর্থিত প্যানেলের ব্রাকসুর জিএস প্রার্থী মেহেদী হাসান, বাইতুল মাল সম্পাদক বাইজিদ শিকদার, মুরসালিন এছাড়াও ছাত্রদল নেতা আশিকসহ দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন।

এঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বেরোবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, যারা আহত হয়েছেন তাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করব। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ বিভিন্নভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে। এ ধরনের কোনো অশুভ শক্তি ভেতরে ঢুকে এই অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। আমরা সবাইকে সচেতন থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি ‌। আমরা ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে সবকিছু দেখব এবং যারাই চিহ্নিত হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা দুই পক্ষের সাথেই কথা বলেছি। শান্ত থাকতে বলেছি। পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

Explore More Districts