আগামী সপ্তাহগুলোতে কোন কোন জেলায় ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি

আইইডিসিআর ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর কিছু বিষয় নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে। তারা বলছে, এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার কম আছে। ২০২৩ সালে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন, সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যান। ওই বছর আক্রান্ত হয়েছিল ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন, মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন। মৃত্যুহার ছিল শূন্য দশমিক ৫৩ শতাংশ। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মৃত্যুহার ছিল যথাক্রমে শূন্য দশমিক ৪৯ ও শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশ। এ বছর ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মৃত্যুহার ছিল শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ।

তবে গতকাল পর্যন্ত এ বছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৃত্যুহার সামান্য হলেও বাড়তির দিকে, শূন্য দশমিক ২৯।

আইইডিসিআর এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৭১ জন রোগীর নমুনা বিশ্লেষণ করে বলেছে, ৯১ দশমিক ৫ শতাংশ সংক্রমণ ঘটছে ডেঙ্গুর ডেনভি৩–এর কারণে। বাকি ৮ দশমিক ৫ শতাংশ সংক্রমণ ঘটাচ্ছে ডেনভি২। বরগুনা ও বান্দরবান জেলায় সংক্রমণ হচ্ছে ডেনভি২–এর কারণে। আর পিরোজপুরে ডেঙ্গুর ধরন ডেনভি২।

রোগতত্ত্ববিদেরা বলেন, ডেঙ্গুর ভাইরাসের চারটি স্ট্রেইন বা ধরন আছে—ডেনভি১, ডেনভি২, ডেনভি৩ ও ডেনভি৪। এর একটি ধরনে আক্রান্ত হলে মানুষের শরীরে সেই নির্দিষ্ট ধরনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে ওঠে। কেউ একবার ডেনভি১ আক্রান্ত হলে তিনি আর কখনো ওই ধরনে আক্রান্ত হবেন না। তবে বাকি তিনটি ধরনে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অর্থাৎ একজন মানুষ মোট চারবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারেন। প্রথমবার আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়ার পর দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হলে জটিলতা বাড়ে, তৃতীয়বারে জটিলতা ও জীবনের ঝুঁকি আরও বাড়ে।

আইইডিসিআরের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে ডেঙ্গুর চারটি ধরনই সক্রিয় আছে।

Explore More Districts