চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেনার জট নিরসনে দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে ১৬৮ কন্টেনার বিভিন্ন ধরনের পণ্য অনলাইন ও বিশেষ নিলামে বিক্রি করার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। দুটি পৃথক টেন্ডারে ভাগ করে এসব পণ্য নিলামে তোলা হচ্ছে। এনবিআরের স্থায়ী আদেশ মতে, প্রথম দফায় ৫৫ লটে মোট ৭৫ কন্টেনার পণ্য নিলামে তোলা হচ্ছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে–বিভিন্ন ধরনের ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, ফেব্রিঙ, পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার, ব্যাডমিন্টন র্যাকেট, এলিভেটর, এয়ার ফিল্টার, ক্রাফট লাইনার পেপার ও লবণসহ অন্যান্য পণ্য।
ক্রেতারা সরেজমিনে আগামী ১৩ জুলাই থেকে ২০ জুলাই পণ্য পরিদর্শন করতে পারবেন। এছাড়া আগামী ১২ জুলাই থেকে ২২ জুলাই বিকেল ৩ টা পর্যন্ত কাস্টমসের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে দরপত্র জমা দিতে পারবেন। অপরদিকে দ্বিতীয় দফায় বিশেষ নিলামে তোলা হচ্ছে ৭৬ লটে ৯৩ কন্টেনার পণ্য। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল, বিটুমিন, যন্ত্রপাতি–যন্ত্রাংশ, প্লাস্টিক সিট, চেস্ট ফ্রিজার, পাইপ, বিভিন্ন ধরনের কাপড়, কাগজ ও গৃহস্থালি পণ্য।
চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এসব পণ্যের কোনো সংরক্ষিত মূল্য নির্ধারণ করেনি। আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য পণ্য পরিদর্শনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ জুলাই থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত। এছাড়া আগামী ১৪ থেকে ২৬ জুলাই বিকাল ৩ টা পর্যন্ত কাস্টমসের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে দরপত্র দাখিল করতে পারবেন। তারপরদিন ২৭ জুলাই দরপত্র উন্মুক্ত করা হবে। চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রস্তাবিত দরমূল্যের ন্যূনতম ১০ শতাংশ জামানতের স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মূল কাগজপত্র দাখিল করতে হবে। সর্বোচ্চ দরদাতাগণকে আমদানি নীতি আদেশ ২০২১–২০২৪ এর প্রযোজ্য শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে পণ্যসমূহ খালাস গ্রহণ করতে হবে।
উল্লেখ্য, আমদানিকৃত পণ্য জাহাজ থেকে বন্দর ইয়ার্ডে নামার ৩০ দিনের মধ্যে আমদানিকারককে সরবরাহ নিতে হয়। এই সময়ের মধ্যে কোনো আমদানিকারক পণ্য সরবরাহ না নিলে তাকে নোটিশ দেয় কাস্টমস। নোটিশ দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এই পণ্য সরবরাহ না নিলে তা নিলামে তুলতে পারে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এছাড়া মিথ্যা ঘোষণায় জব্দ পণ্যও নিলামে তোলা যায়। সর্বমোট ৪৫ দিনের মধ্যে নিলামে তোলার এই নিয়ম দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর করতে পারেনি বন্দর ও কাস্টমস। এতে করে বন্দরের ইয়ার্ডে এসব কন্টেনার পড়ে থাকে। আমদানি পণ্য যথাসময়ে খালাস না নেয়ায় বন্দরগুলোতে প্রায়ই কন্টেনার জট লাগে। দিনের পর দিন কন্টেনার পড়ে থাকলেও বন্দর কর্তৃপক্ষও চার্জ পায় না।

