| ১৬ July ২০২৬ Thursday ৫:১৬:৩০ PM | |

আসাদুল ইসলাম আসাদ: আষাঢ়ের ফল,শ্রাবণের জল এই স্লোগানে বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে ফল উৎসব ২০২৬। ১৫ জুলাই মঙ্গলনার ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে কলেজের ব্যবসায় প্রশাসন ভবনের ৩০২ নম্বর কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় এই ফল উৎসব। যেখানে অংশ নিয়েছেন কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অনার্স কোর্সের চার বর্ষের শিক্ষার্থী এবং মাস্টার্স এর ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক কামরুন্নেছা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক,মুজিবুর রহমান,রফিকুল ইসলাম,লাবু আনোয়ার, মামুন গাজী,নাজমুল ইমন,ফিরোজ আলম,প্রজিত বড়াল,শাহজালাল নাঈম।
সকাল ১০ টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠান বিকাল সাড়ে পাঁচ টায় শেষ হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।
আয়োজকদের সুত্রে জানা গেছে,‘ অনুষ্ঠানের শুরুর দিকে শ্রেণিভিত্তিক বক্তব্য দেন শিক্ষার্থীরা। যেখানে প্রত্যেক ব্যাচ থেকে একজন করে শিক্ষার্থী বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা ব্যতিক্রমী এই আয়োজনের প্রশংসা করে ভবিষ্যতেও এধরণের অনুষ্ঠান আয়োজনের আহবান জানান।
অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার লামিয়া তার বক্তব্যে বলেন, ‘একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি এধরণের আয়োজন আমাদের মনোজগতে ইতিবাচক সাড়া ফেলে। যার কারণে শিক্ষাজীবন হয়ে ওঠে আনন্দময়। ’
অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এ এইচ এম মুকতাদির বলেছেন,‘আজকের এই অনুষ্ঠান ছিল বিভাগের সকল শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা। আজকে আমরা বিভিন্ন ফলের উপকারিতা সম্পর্কে জানতে পেরেছি।আমরা চাই প্রতিবছর এমন আয়োজন হোক।’
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শেষে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ।
স্বাস্থ্যের জন্য মৌসুমি ফলের গুণাগুণ তুলে ধরে শিক্ষক ফিরোজ আলম বলেন,‘বছরের নির্দিষ্ট সময়ে মৌসুমি ফলের প্রচুর চাহিদা থাকে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,‘তোমরা চাইলে পড়ালেখার পাশাপাশি অবসর সময়ে মৌসুমি ফলের ব্যবসায় উদ্যোগ নিতে পারো। এতে করে একদিকে যেমন নিজের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ হবে তেমনি তোমাদের মনে উদ্যোক্তা হওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাবে।’
ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক কামরুন্নেছা বলেন,‘ শুধু ফল খেলেই তা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারে আসেনা বরং কখনো কখনো তা আমাদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ায়। কেননা বর্তমানে বাজারে ভেজালমুক্ত ফলের চাইতে ফরমালিনযুক্ত ফলের উপস্থিতি বেশি। তাই ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি শিক্ষার্থীদের সচেতন হয়ে যাচাই বাছাই করে ফল কেনার জন্য পরামর্শ দেন।’
বক্তৃতা শেষে উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে মৌসুমি ফল বিতরণ করা হয় যার মধ্যে ছিল আম,কাঁঠাল। এছাড়াও পেঁপে,আনারস,লটকন,জাম্বুরা,কলা সহ বিভিন্ন ফল বিতরণ করা হয়েছে।
ফল বিতরণ শেষে মধ্যাহ্নভোজ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর কিছুক্ষণ বিরতি দেওয়া হয় অনুষ্ঠানে।
বিরতি শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। যেখানে ছিল গান,কবিতা আবৃত্তি, একক নৃত্য ও যৌথ নৃত্য। অংশগ্রহণকারীদের নজরকাড়া পারফরম্যান্সে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সবমিলিয়ে সকলের অংশগ্রহণে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবারের আয়োজন।
বিএম কলেজের ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে এমন আয়োজন প্রতিটি বিভাগে করা উচিত বলে মনে করছেন অন্যান্য শিক্ষার্থীরা।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |
