বান্দরবানে ‘পাগলা’ কুকুরের কামড়ে শিশুসহ ১৭ জন আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বান্দরবান পৌর এলাকা ও সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে এসব ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজনকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী হেলাল ও সাগ্যচিং বলেন, সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পৌর এলাকার মধ্যমপাড়া, উজানীপাড়া ও কালাঘাটা এবং সদর ইউনিয়নের লেমুঝিড়ি এলাকায় কুকুরের কামড়ে ১৭ জন আহত হন। সড়ক দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় শিশু, নারী ও পুরুষেরা পাগলা কুকুরের আক্রমণের শিকার হন।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে উচাইসিং মারমা (৮) ও চংপ্রেং ম্রো (৬) নামে দুই শিশু রয়েছে। তারা রাজগুরু বৌদ্ধবিহারে লেখাপড়া করে বাড়ি ফেরার পথে কুকুরের কামড়ের শিকার হয়। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দা চিংইয়ায় থুই মারমা (২৭) খামারে যাওয়ার পথে বঙ্গঝিড়ি সড়কে কুকুরের কামড়ের শিকার হন। লেমুঝিড়ি এলাকার লক্ষ্মী দেবী তঞ্চঙ্গ্যা (৩৫) বাজার থেকে ফেরার পথে আগাপাড়ায় কুকুরের আক্রমণে আহত হন। বান্দরবান সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লেমুঝিড়ি মধ্যমপাড়ার বাসিন্দা কামাল হোসেন (৩০) বম হোস্টেল থেকে বাড়ি ফেরার পথে কুকুরের কামড়ের শিকার হন। তিনি বর্তমানে বান্দরবান সদর হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডের ২৭ নম্বর শয্যায় চিকিৎসাধীন।
বান্দরবান সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, সোমবার শহরের বিভিন্ন স্থানে কুকুরের কামড়ে ১৭ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন গুরুতর আহত হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়েছে। একসঙ্গে এত রোগীকে টিকা দেওয়ায় হাসপাতালে টিকার সংকট দেখা দিতে পারে।
হাসপাতালের তথ্যমতে, চলতি বছরের জুলাইয়ে ৬৭ জন, আগস্টে ১১৩ জন এবং সেপ্টেম্বরে ১১৫ জন কুকুরের কামড়ের শিকার হয়ে টিকা নিয়েছেন। গত তিন মাসে মোট ২৯৫ জনকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়েছে। সোমবারের ১৭ জনকে নিয়ে এ সংখ্যা আরও বেড়েছে।
স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী অংচ মং মারমা বলেন, বর্তমান সময়ে কুকুরের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় কুকুরগুলো আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। এ পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পৌর কর্তৃপক্ষের দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
বান্দরবান পৌরসভার প্রশাসক এসএম মজুরুল হক বলেন, আগে বেওয়ারিশ কুকুর মেরে ফেলা হতো। তবে বর্তমানে এসব কুকুর নিধনের সুযোগ নেই। তাই বেওয়ারিশ কুকুরগুলোকে টিকাদানের আওতায় আনা যায় কিনা, তা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করা হবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

