হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে ইতালি প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মুখোশধারী একদল ডাকাত পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকাসহ প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে বানিয়াচং উপজেলা সদরের ৩ নম্বর দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পাড়াগাঁও মহল্লায় আয়েশা আবেদ ফাউন্ডেশনের পাশে ইতালি প্রবাসী ফুল মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফুল মিয়ার ছেলে আতিকুর রহমান দীর্ঘদিন পর ইতালি থেকে দেশে ফিরেছেন। সামনে তার বিয়ের আয়োজন থাকায় তিনি ইতালি থেকে কিছু স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে দেশে আসেন। ঘটনার রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় ১৫ থেকে ২০ জনের মতো মুখোশধারী ডাকাত কেচি গেটের তালা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করে।
ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে তাদের একটি অংশ বাড়ির বাইরে অবস্থান নেয় এবং অন্যরা ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা নিয়ে যায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। লুট হওয়া মালামালের মধ্যে প্রায় ১১ ভরি স্বর্ণালংকার ও ছয়টি মোবাইল ফোন রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ফুল মিয়ার ভাই নূর মিয়া বলেন, আতিকুর রহমান বিয়ের উদ্দেশ্যে দীর্ঘ কয়েক বছর পর ইতালি থেকে দেশে এসেছেন। গরমের কারণে পরিবারের সদস্যরা কেচি গেট তালাবদ্ধ করে ঘরের দরজা খোলা রেখে ঘুমিয়েছিলেন। এ সুযোগে ডাকাতরা গেটের তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে সবাইকে জিম্মি করে মালামাল নিয়ে যায়।
ডাকাতির শিকার পরিবারের প্রতিবেশী প্রবাসী দুলাল মিয়া অভিযোগ করেন, ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের মারধর করে ঘরে রাখা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারের অবস্থান জানতে চায়। পরে ভয়ে পরিবারের সদস্যরা সেগুলোর অবস্থান জানাতে বাধ্য হন।
এদিকে ডাকাতির পর স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও মাদক-জুয়াসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, হবিগঞ্জ রোডের ডাকবাংলো এলাকা থেকে শরীফ উদ্দিন সড়ক পর্যন্ত বিভিন্ন সময় অপরিচিত ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আনাগোনা দেখা যায়।
স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেন, এর আগেও ওই এলাকায় ছিনতাই ও ডাকাতির মতো ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি সামীর আলীর অটো রাইস মিলের সামনে ভোররাতে কয়েকজন যাত্রীকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মারধর ও টাকা-মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ঘটনাটি সিসিটিভি ফুটেজে থাকতে পারে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
এ ছাড়া গত ১৪ আগস্ট শুক্রবার ছিলাপাঞ্জা এলাকায় জুমার নামাজের সময় একটি দোকানের তালা ভেঙে নগদ ৭০ হাজার টাকা চুরির ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, একই ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জুয়া ও মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে অপরাধী চক্রের আনাগোনা রয়েছে। এ ঘটনায় অতীতে থানা পুলিশ ও হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলেও তারা জানান। তবে গ্রেপ্তারের পর জামিনে বেরিয়ে এসে কেউ কেউ আবার একই কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য রুমন মিয়ার বক্তব্য জানতে সকাল থেকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।
বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হক ডাকাতির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই তিনি পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ডাকাতদের গ্রেপ্তার ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।
তিনি বলেন, অপরাধীরা নিজেদের যতই শক্তিশালী মনে করুক, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তবে ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
