বরিশালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অফিসে তালা, অবরুদ্ধ ১৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে উদ্ধার

বরিশালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অফিসে তালা, অবরুদ্ধ ১৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে উদ্ধার

১০ July ২০২৬ Friday ১২:০৯:৪৭ AM

Print this E-mail this


নগর প্রতিনিধি:

বরিশালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অফিসে তালা, অবরুদ্ধ ১৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে উদ্ধার

বরিশালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অফিসে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন কয়েক ছাত্র। পরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তালা ভেঙে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

অধিদপ্তরের নবনিযুক্ত পরিচালক ডা. এস.এম মনিরুজ্জামানকে নিয়ে বিএনপিপন্থী সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) বিরোধের জেরে গত তিন দিন ধরে এ ঘটনা ঘটছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুপুরে তালা লাগানোর নেতৃত্ব দিয়েছেন বিএনপি সমর্থিত ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল শাখার সভাপতি ডা. নজরুল ইসলাম সেলিম। এর আগে গতকাল বুধবার তাঁর নেতৃত্বে মনিরুজ্জামানকে টেনে বের করে পরিচালকের কক্ষে তালা দেওয়া হয়।

পরিচালকের কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারী জানান, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ডা. সেলিমের নেতৃত্বে মেডিকেল কলেজের কয়েক ছাত্র পরিচালকের দপ্তরে যান। সকালে পরিচালক তাঁর দপ্তরে আসার বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান ছাত্ররা। এর পরই ছাত্ররা ভবনের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন।

কর্মচারীরা জানিয়েছেন, এতে সহকারী পরিচালকসহ ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ভেতরে আটকা পড়েন। জোহরের নামাজ পড়তে মসজিদে যাওয়া ৪ জন ভেতরে ঢুকতে পারেননি। অবরুদ্ধ থাকার বিষয়টি মন্ত্রণালয়সহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জহির রায়হান পুলিশসহ বিকেলে তালা ভেঙে তাঁদের উদ্ধার করেন।

জানতে চাইলে ড্যাব নেতা ডা. নজরুল ইসলাম সেলিম জানান, পরিচালক ৫ দিনের ছুটিতে আছেন। অথচ বৃহস্পতিবার সকালে বহিরাগতদের নিয়ে দপ্তরে গিয়ে ছাত্রদের দেওয়া তালা ভেঙেছেন। এতে ক্ষুব্ধ ছাত্ররা আবারও ওই দপ্তরে গিয়েছিলেন। খবর পেয়ে তিনিও সেখানে যান। তিনি চলে আসার পরে ছাত্ররা তালা লাগিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমার অফিসে আমি গিয়েছি। ছুটি থাকলে যাওয়া যাবে না, এমন কোনো আইন নেই। বরং যিনি (ডা. সেলিম) গিয়েছেন, তিনি বহিরাগত। আগের দিনও তিনি বিপুলসংখ্যক বহিরাগত নিয়ে সরকারি অফিসে বিশৃঙ্খলা করেছেন।, 

স্বাস্থ্যের বিভাগীয় সহকারী পরিচালক ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, বেলা ১টার দিকে কিছু লোক প্রথমে দপ্তরে ঢুকে। পরে তারা প্রধান ফটকে তালা মেরে চলে যায়। তিনি নিজ কক্ষের মধ্যে থাকায় কারা গিয়েছিল বা তালা মেরেছে তা তিনি দেখেননি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলে জানানো হলে বিকেলে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তালা ভাঙা হয়েছে।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts