বরগুনায় হত্যাকাণ্ডের দেড় মাসেও উদ্ধার হয়নি ব্যবসায়ী শামীমের মাথা

বরগুনায় হত্যাকাণ্ডের দেড় মাসেও উদ্ধার হয়নি ব্যবসায়ী শামীমের মাথা

১৯ July ২০২৬ Sunday ১২:৪৮:৪২ PM

Print this E-mail this


বগুনা প্রতিনিধি:

বরগুনায় হত্যাকাণ্ডের দেড় মাসেও উদ্ধার হয়নি ব্যবসায়ী শামীমের মাথা

গত ৮ জুন বরগুনার গৌরীচন্না এলাকার একটি খাল থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ী শামীমের মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিনই অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন নিহতের স্ত্রী রোকসানা। এরপর এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে একে একে ছয়জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পর্যায়ক্রমে সবার রিমান্ডও মঞ্জুর করেন আদালত। এরপরও এখন পর্যন্ত শামীমের মাথা উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গৌরীচন্না এলাকার খালের যে স্থান থেকে শামীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, সেই স্থান ও এর আশপাশের এলাকায় দফায় দফায় তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া একাধিকবার খালে জাল টেনে শামীমের মাথার সন্ধান চালিয়েছে ডিবি পুলিশ। কিন্তু মাথার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

তবে পুলিশ বলছে, শিগগিরই শামীমের মাথা উদ্ধার করা হবে।

এ দিকে শামীম হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা হলেন: সজীব, শ্যামল, সফিক, দূর্জয়, সাগর এবং শিমুল। মামলাটির তদন্ত করছে জেলা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি)।

এ বিষয়ে গৌরীচন্না বাজারের ব্যবসায়ী মো. ফরিদ হোসেন বলেন, ‘ঘটনার দিন সন্ধ্যায় শামীম আমার দোকানে এসে চা খেয়ে রাত ৯টার দিকে পাশের দোকানে যায়। এরপর আমি দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যাই। পরে শুনতে পাই শামীমকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে খালের মধ্যে তার মাথাবিহীন মরদেহ পাওয়া যায়। কিন্তু ওই ঘটনার এক মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত শামীমের মাথাটি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।’

এ বিষয়ে নিহত শামীমের প্রতিবেশী আফরুজা আক্তার সাথী বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের পর ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু গ্রেফতাররা আসল আসামি কিনা, আমরা তা জানি না। যদি তারা মূল আসামি হয়, তাহলে এক মাস পার হলেও এখনও কেন প্রশাসন মাথাটি উদ্ধার করতে পারেনি।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই, ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করা হোক এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক। কিন্তু অন্য কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয়।’

নিহত ব্যবসায়ী শামীমের ছেলে মো. নাইম বলেন, ‘আমাদের পরিবারের একমাত্র ভরসাই ছিল আমার বাবা। আমাদের সব চাহিদা তিনিই পূরণ করতেন। এখন আর আমাদের চাহিদা পূরণের কেউ নেই। প্রশাসনের কাছে আমার একটাই চাওয়া, বাবার মাথাটি উদ্ধারসহ জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করুক।’

এ বিষয়ে শামীমের স্ত্রী রোকসানা বলেন, ‘এক মাসেরও বেশি হয়েছে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। ছয়জনকে গ্রেফতার করলেও আমার স্বামীর মাথাটি এখন পর্যন্ত পাইনি। তবে তাদের সন্দেহের ভিত্তিতে পুলিশ গ্রেফতার করছে। কারণ আমি কারও নাম উল্লেখ করে মামলায় অভিযোগ দিতে পারিনি। আমি প্রশাসনের কাছে বিচার চাই এবং স্বামীর মাথাটা উদ্ধারের দাবি জানাই।’

এ বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, ‘এটি একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড। ঘটনার পরপরই মামলা রুজু হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের আলামত পর্যালোচনা করে পরপর ছয় আসামি গ্রেফতার করা হয়েছে। পরবর্তীতে আদালতে মাধ্যমে রিমান্ড মঞ্জুর করে তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আমরা নিশ্চিত- যারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, এই ছয়জনের মধ্যে তারা আছেন। তবে এর বাইরেও আরও দুই একজন থাকতে পারেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য অনুযায়ী ওই খালের মধ্যের বিভিন্ন জায়গায় জাল দিয়ে আমরা শামীমের মাথা খুঁজেছি। তবে একটি সমস্যা হলো- ওই খালে স্রোত এবং একটি স্লুইসগেট আছে। ওই গেট থেকে মাথাটি বের হয়ে যদি বড় নদীতে চলে যায় তাহলে মাথাটি পাওয়ার আশা কম। তারপরও আমরা আশাবাদী- মাথাটি উদ্ধার করা সম্ভব হবে। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।’

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts