চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পুলিশের নিয়মিত টহল চলাকালে ডাক শুনে পালাতে গিয়ে লতিফগঞ্জ মাদ্রাসার নৈশ্য প্রহরী তারেক আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল ) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের লতিফগঞ্জ ইসলামীয় ফাজিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
আহত নৈশ্য প্রহরী তারেক হোসেন মাদ্রাসার পাশের চৌধুরী বাড়ির মৃত রফিকুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় পুলিশ নিয়মিত টহল জোরদার করে। এরই অংশ হিসেবে ডিউটিরত এএসআই মাসুদ রানা সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মাদ্রাসায় গিয়ে নৈশ্য প্রহরী তারেক হোসেনকে তলব করেন। তবে তিনি সেখানে উপস্থিত না থাকায় তার মোবাইলে যোগাযোগ করা হয়। পরে তারেক মাদ্রাসার গেটের বাইরে এসে দাঁড়ালে পুলিশ তাকে গেট খুলতে বললে সে হঠাৎ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় মাদ্রাসার পেছনের দেয়াল টপকাতে গিয়ে গেটের ধারালো লোহার শিকে তার হাত গুরুতরভাবে কেটে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায়ও তিনি দৌড়ে পাশের একটি বাড়ির আঙিনায় ঢুকে পড়েন।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শাহজাহান মিয়া জানান, রাত দেড়টার দিকে তারেক তাকে ডাকলে তিনি বাইরে এসে দেখেন পুলিশ তাকে ধরে রেখেছে এবং তার হাত থেকে রক্ত ঝরছে। পরে তিনি পানি খাওয়ান এবং গামছা দিয়ে রক্তপাত বন্ধের চেষ্টা করেন।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, নৈশ্য প্রহরী তারেক হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মাদ্রাসার ক্লাস রুমেই মাদক সেবনসহ অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থীও অভিযোগ করেন, শ্রেণিকক্ষে মাদক সেবনের প্রমাণ তারা একাধিকবার পেয়েছেন।
তারেক হোসেনের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। তাদের ঘোর তালা দেয়া অবস্থায় পাওয়া গেছে। তারেকের বক্তব্যের জন্য মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও
তার মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা মো. আমীর হোসেন বলেন, তারেকের বিরুদ্ধে আগে থেকেই নানা অভিযোগ ছিল। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ তার কক্ষ তল্লাশি করে একটি ধারালো অস্ত্র ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। আমি বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসার সভাপতি ও সংশ্লিষ্টদের অবগত করবো।
তিনি আরো জানান, নৈশ্য প্রহরী তারেক বিরুদ্ধে ফরিদগঞ্জ থানায় ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেও কোন উপকার হয়নি। সে কয়েকবার অঙ্গীকার করেও সঠিক পথে আসেনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মাসুদ আলম বলেন, “পুলিশ দেখে পালাতে গিয়েই সে আহত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। এ কারণে তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।” সে এলাকার বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত।
মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা নৈশ্য প্রহরী তারেক বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন বলে, তারেক একটা লম্পট। সে আমাদের মাদ্রাসায় বসে মাদক সেবন করে। এলাকায় চুরি ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত। তাকে আমাদের মাদ্রাসা থেকে অপসারণ করে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষা করতে হবে।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হেলাল উদ্দিন জানান, “পুলিশের টহল টিম তাকে তলব করলে সে পালানোর চেষ্টা করে এবং দেয়ালে আঘাত পেয়ে আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরো জানান, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনায় বলা হয়েছে সকাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নৈশ্য প্রহরীকে রাতে তলব করার জন্য। নৈশ্য প্রহরীর পুলিশ দেখে পালাতে গিয়েছে মানেই বুঝতে হবে সে কোন অপরাধের সাথে জড়িত। তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদক: শিমুল হাছান,
১৫ এপ্রিল ২০২৬
