পিরোজপুরে ১২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাশ করেনি কেউ, শতভাগ উত্তীর্ণ তিন বিদ্যালয়ে

১১ August ২০২৬ Tuesday ৮:৫১:২০ PM

Print this E-mail this


পিরোজপুর প্রতিনিধি:

পিরোজপুরে ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো পরীক্ষার্থী পাশ করেনি এবারের এসএসসি পরীক্ষায়। তবে তিন বিদ্যালয়ে শতভাগ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নেছারাবাদ উপজেলার সোহাগদল গনমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৮ জন, কলারদোয়ানিয়া বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৮ জন এবং নেছারাবাদ উপজেলার শহীদ স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে।

অন্যদিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার পোরগোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৮ পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও উত্তীর্ণ হতে পারেনি কেউ। এছাড়া পিরোজপুর সদর উপজেলায় একটি মাদ্রাসা, ভান্ডারিয়া উপজেলায় পাঁচটি মাদ্রাসাসহ জেলার ১১ মাদ্রাসায় কোনো পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়নি। এছাড়া একজন করে উত্তীর্ণ হয়েছে সাতটি মাদ্রাসা ও দুইজন করে ৯টি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা উত্তীর্ণ হয়েছে।

পিরোজপুরের পোরগোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে অকৃতকার্য হওয়া এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, অভিভাবক হিসেবে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। চার-পাঁচটি বিষয়ে প্রাইভেট পড়িয়েছি, নিয়মিত চেষ্টা করছি কিন্তু স্কুলে স্যাররা কী করছেন, বলতে পারছি না। স্কুলে গেছে আর আইছে, ক্লাশের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত স্কুল হয়নি। কখনো ১০টায় গিয়ে ১১টায় চলে এসেছে। কখনো স্যাররা নেই, শিক্ষার্থীরাও চলে এসেছে।

অকৃতকার্য এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে- ক্লাশ করানোর মতো শিক্ষক ছিল না। অংক ও ইংরেজির শিক্ষক ছিল না। ক্লাশও কম হয়েছে। অনেক সময় স্যারেরা অল্প সময় ক্লাশ নিয়ে ছুটি দিয়ে দিতেন, তাই আমরা চলে যেতাম।

কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ না হওয়ার বিষয়ে জে কে পঞ্চগ্রাম নেছারিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসার ইংরেজি শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকরা যদি আরও একটু সচেতন ও দায়িত্বশীল হতেন, তাহলে ফলাফল আরও ভালো হতে পারত। হয়তো কিছু ভালো শিক্ষার্থীও পাশ করত। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন পরীক্ষার্থীও পাশ করবে না এটা কখনই কাম্য নয়। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ৮ থেকে ১০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে, অথচ সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। সেখান থেকে অন্তত তিন-চারজন শিক্ষার্থী পাশ করা উচিত ছিল।

পিরোজপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, শতভাগ ফেল করা বিদ্যালয়গুলোর ফলাফল আমরা পর্যালোচনা করছি। ফল খারাপ হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হবে। জবাব পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts