পিরোজপুরে ভবন নির্মাণ করায় ১১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, না পেয়ে বৃদ্ধকে মারধর

পিরোজপুরে ভবন নির্মাণ করায় ১১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, না পেয়ে বৃদ্ধকে মারধর

২ June ২০২৬ Tuesday ৬:৩৩:৪০ PM

Print this E-mail this


পিরোজপুর প্রতিনিধি:

পিরোজপুরে ভবন নির্মাণ করায় ১১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, না পেয়ে বৃদ্ধকে মারধর

পিরোজপুর পৌর এলাকার কুমারখালী (পিটিআই) এলাকায় ১১ লাখ টাকা চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত ব্যক্তির স্ত্রী পিরোজপুর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পিরোজপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কুমারখালী এলাকার বাসিন্দা মো. শহিদ মোল্লা (৬৫) সোমবার (১ জুন) সন্ধ্যায় আনুমানিক ৭টা ১০ মিনিটে মাগরিবের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় কামাল মোল্লার বাড়ির সামনে পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি তার পথরোধ করে।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সাব্বির মোল্লা, তাজবির মোল্লা ও কালাম মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে শহিদ মোল্লার কাছে ১১ লাখ টাকা দাবি করে আসছিলেন। ঘটনার দিনও তারা ওই টাকা দাবি করলে শহিদ মোল্লা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এসময় অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তদের হাতে থাকা লাঠি দিয়ে আঘাত করলে শহিদ মোল্লার নাক ও গলায় মারাত্মক জখমসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন সৃষ্টি হয়। তার চিৎকার শুনে স্বজন ও স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

পরে স্থানীয়রা আহত শহিদ মোল্লাকে উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন।

আহত শহীদ মোল্লা বলেন, আমি মাগরিবের নামাজ পড়ে বাড়ি আসছিলাম। মূলত আমি একটি বিল্ডিং করছি, এর সিঁড়ির কাজ চলমান রয়েছে। এই সিঁড়ি তারা করতে দেবে না। তারা আমাকে গালাগালি করেছে কেন আমি সিঁড়ি করেছি। সাব্বির মোল্লা দৌড়ে এসে আমাকে মেরেছে। এর আগেও আমার কাছে কয়েকবার টাকা দাবি করেছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।

আহতের স্ত্রী মিনারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত এবং তাদের ভয়ে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পান না।

এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে অভিযুক্তদের এসব বিষয়ে ফোন করলে তারা এসব বিষয় অস্বীকার করে। পুলিশের তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts