পিরোজপুরে এমবিবিএস পরিচয়ে দেখতেন রোগী, সিভিল সার্জন আসতেই পালালেন মাসুদ

পিরোজপুরে এমবিবিএস পরিচয়ে দেখতেন রোগী, সিভিল সার্জন আসতেই পালালেন মাসুদ

৫ October ২০২৬ Monday ৪:০৬:০১ PM

Print this E-mail this


পিরোজপুর প্রতিনিধি:

পিরোজপুরে এমবিবিএস পরিচয়ে দেখতেন রোগী, সিভিল সার্জন আসতেই পালালেন মাসুদ

পিরোজপুর শহরের নড়াইল পাড়ার নিউ ফেয়ার হেলথ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এমবিবিএস চিকিৎসক পরিচয়ে রোগী দেখার অভিযোগ উঠেছে গোলাম মাসুদ মৃধা নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তবে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত ডিগ্রি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর স্বাস্থ্য বিভাগ অভিযান চালালেও তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুর ৩টার দিকে পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমানের নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের খবর পেয়ে কথিত ওই চিকিৎসক আগেই সরে যান বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

অভিযানের সময় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তার নামে টানানো ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন সরিয়ে ফেলা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষকে তাকে দিয়ে আর রোগী না দেখানোর জন্য সতর্ক করা হয়।

ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাওয়া তার ভিজিটিং কার্ড ও প্রচারসামগ্রীতে ডা. মো. গোলাম মাসুদ মৃধাকে এমবিবিএস, এমডি (চর্ম ও যৌন), ডিইউএমএস (ইউনানী মেডিসিন) ও পিএইচডি ডিগ্রিধারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তাকে চর্ম, যৌন, কুষ্ঠ, অ্যাজমা ও অ্যালার্জি রোগের বিশেষজ্ঞ হিসেবেও পরিচয় দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ডিগ্রি যাচাই করে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। সূত্রটি জানায়, তিনি ‘প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি’ থেকে এমবিবিএস এবং ডার্মাটোলজিতে এমডি ও পিএইচডি করার দাবি করেন। দেশের বিভিন্ন জেলায় তিনি চেম্বার করেন বলেও সূত্রটি জানায়।

স্বাস্থ্য বিভাগের ওই সূত্র আরও দাবি করে, ‘প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি’ থেকে এমবিবিএসের ভুয়া সনদ বিক্রির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান পরিচয়দানকারী এন এম হক ওরফে ডা. সাইদুর রহমানকে ২০২২ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেফতার করেছিল।

পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমান বলেন, ডা. মো. গোলাম মাসুদ মৃধার অর্জিত ডিগ্রিগুলো ভুয়া বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। তার কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে বিএমডিসির রেজিস্ট্রেশনও পাওয়া যায়নি। এ কারণে আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের অভিযানের খবর পেয়ে কথিত ওই চিকিৎসক আগেই চলে যান। তিনি প্রতি রোববার পিরোজপুরে রোগী দেখেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। খুলনায়ও তার বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। আমরা প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে আর এখানে রোগী দেখানো হবে না বলে তারা জানিয়েছে। এরপরও তিনি রোগী দেখাতে এলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযানের সময় ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষকে ভবিষ্যতে ওই ব্যক্তিকে দিয়ে রোগী না দেখানোর জন্য সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি তার নামে থাকা সব ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন সরিয়ে ফেলা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কথিত ডা. মো. গোলাম মাসুদ মৃধার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts