এই আত্মঘাতী ভুলের বৃত্ত থেকে বের হতে হলে সরকারকে অবিলম্বে কতগুলো কঠোর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রথমত, যেসব মেডিক্যাল কলেজের নিজস্ব ক্যাম্পাস, একাডেমিক ভবন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী শিক্ষক ও শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নেই, সেগুলোতে অবিলম্বে নতুন ছাত্র ভর্তি বন্ধ রাখতে হবে।
দ্বিতীয়ত, অবকাঠামো ও শিক্ষকহীন প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের কাছাকাছি মানসম্পন্ন ও সক্ষমতাসম্পন্ন মেডিক্যাল কলেজে (যেমন: মাগুরা থেকে যশোর, নওগাঁ থেকে রাজশাহী ও নেত্রকোনা থেকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ) স্থানান্তর করে তাঁদের শিক্ষাজীবন সুরক্ষিত করতে হবে।
তৃতীয়ত, নতুন মেডিক্যাল কলেজের অনুমোদন দেওয়া হলেও, ডিপিপি তৈরি করে শতভাগ ভৌত অবকাঠামো, আধুনিক ল্যাব এবং শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন করার আগে কোনো অবস্থাতেই শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করা যাবে না।
বর্তমানে সরকারি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক নিয়োগ মূলত সিভিল সার্ভিসের মেডিক্যাল ক্যাডারের ওপর নির্ভরশীল। চিকিৎসকেরা প্রথমে মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে যোগদান করেন এবং পরবর্তী সময়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ইচ্ছার ভিত্তিতে মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষক হিসেবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান। এর ফলে ক্লিনিক্যাল বিষয়ে তুলনামূলকভাবে শিক্ষক পাওয়া গেলেও বেসিক ও প্যারা ক্লিনিক্যাল বিষয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে যোগ্য শিক্ষকের ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য মেডিক্যাল কলেজের জন্য পৃথক শিক্ষক নিয়োগকাঠামো প্রবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি।
-
ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ অধ্যাপক, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

