| ১৩ April ২০২৬ Monday ৩:৫২:০০ PM | |

তালতলীতে খেয়া পারাপার নিয়ে বিরোধের জেরে ট্রলার মাঝিকে মারধর করে দুই হাত ভেঙে দেওয়া এবং ট্রলার নদীতে ডুবিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে তালতলীর জয়ালভাঙ্গা আইসোটেক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জাহাজঘাটে এ ঘটনা ঘটে। আহত সোহেল তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং সোহাগ বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জানা গেছে, তালতলী উপজেলার জয়ালভাঙ্গা আইসোটেক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ২০২২ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হয়। ওই সময় বিদেশ থেকে কয়লাবাহী জাহাজ এসে পায়রা পোর্টে নোঙর করে। সেখান থেকে লাইটার জাহাজে করে আইসোটেক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লা আনা হয়। বড় জাহাজগুলো নদীর মাঝখানে নোঙর করে থাকে। স্থানীয় সগির মিয়া এসব জাহাজের লোকজনকে পারাপারের জন্য জাহাজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দৈনিক ট্রলারপ্রতি ৫০০ টাকায় চুক্তি করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদ খান ট্রলার মালিক সগির মিয়াকে মারধর করে ঘাট দখলে নেন। এ জাহাজ ঘাটের দখল নিয়ে গত ছয় মাস ধরে ইউপি সদস্যের সঙ্গে স্থানীয় ইলিয়াস চৌকিদারের বিরোধ চলছিল।
এরই জেরে গত সোমবার জাহিদের লোকজন সগির মিয়া, তার স্ত্রী রোকেয়া ও বায়েজিদ গাজীকে মারধর করে। এ ঘটনায় তালতলী থানায় মামলা হয়।
গত শনিবার তালতলী থানার ওসি মো. শরীফুল ইসলাম ঘাটে গিয়ে ইলিয়াস চৌকিদার ও জাহিদ খানের মধ্যে সমঝোতা করে দেন। সমঝোতা অনুযায়ী রোববার সকাল ১০টার দিকে ইলিয়াসের ট্রলারের মাঝি সোহাগ চৌকিদার ও সোহেল জাহাজের লোকজন পারাপার করছিলেন।
এ সময় জাহিদ খান ও তার বাবা পনু খানের নেতৃত্বে তিনটি ট্রলারে অর্ধশতাধিক হামলাকারী এসে সোহাগকে পিটিয়ে দুই হাত ভেঙে দেয় এবং মাথায় গুরুতর জখম করে। অপর মাঝি সোহেল নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে তারা ইলিয়াসের ট্রলারটি নদীতে ডুবিয়ে দেয়।
ইলিয়াস বলেন, গতকাল শনিবার তালতলী থানার ওসি এসে আমাকে ও জাহিদ খানের মধ্যে সমঝোতা করে দেন। সেই অনুযায়ী আমি ট্রলার নিয়ে মাঝি সোহাগকে দিয়ে জাহাজের লোকজন পারাপার করতে পাঠাই। ওই সময়ে জাহিদ খান ও তার বাবা পনু খানের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা আমার ট্রলারের মাঝিকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।
তিনি আরও বলেন, আমার ট্রলারটি নদীতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
ইউপি সদস্য জাহিদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার ট্রলারের মাঝিকে উলটো তারা মারধর করেছে। ঘাটে ট্রলার চালানো নিয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি।
তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আইরিন আলম বলেন, গুরুতর আহত সোহাগকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তালতলী থানার ওসি মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, গতকাল শনিবার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় দুই পক্ষকে ডেকে সমঝোতা করে এসেছিলাম, কিন্তু তারা মারধর করেছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |

