ঠাকুরগাঁওয়ে জুয়ার আসর থেকে ৪ পুলিশ সদস্য গ্রেফতার
স্টাফ রিপোর্টার:
জুয়ার আসর থেকে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের হলপাড়া এলাকায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের উত্তর পাশে একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শান্তি কুমার রায় (৩৭), কনস্টেবল মো. সোহেল রানা (৩৩), কনস্টেবল আলমগীর কবির (৩৩) এবং সদর ফাঁড়িতে কর্মরত এএসআই মো. শাহাদত জামান (৩৯)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের উত্তর পাশে থাকা পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের জুয়া খেলার তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল। গত সোমবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পারে সদর থানার টহল দল। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আলমগীর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জুয়েল রানার নেতৃত্বে সেখানে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে তাস, জুয়ার বোর্ডে থাকা নগদ টাকা ও কয়েকটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় পঞ্চগড় জেলা পুলিশের এটিএসআই মো. আতাউর রহমান (৪০) এবং পিবিআই ঠাকুরগাঁওয়ের কনস্টেবল মো. শহিদুল ইসলাম (৩৮) পালিয়ে যান। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় ঠাকুরগাঁও সদর থানার এসআই মো. লিখন হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মঙ্গলবার মামলাটি থানায় নথিভুক্ত করা হয়। মামলায় ২০২৬ সালের জুয়া প্রতিরোধ আইনের ১৫ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩২৩ ও ৩২৫ ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুজিত কুমার পাল বলেন, ‘অপরাধের সঙ্গে যে বা যারাই জড়িত থাকুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক দুজনকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. খোদাদাদ হোসেন বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে পুলিশের কিছু সদস্যের জুয়া খেলার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল। পরে বিষয়টি যাচাই করতে গিয়ে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। সাধারণ অপরাধীদের বিরুদ্ধে যেভাবে আইন প্রয়োগ করা হয়, আটক পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও একইভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে। তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
রংপুর/স/এস
