দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
কোনো একক ব্যক্তি বা সংগঠনের পক্ষে জুলাই আন্দোলনের একক দাবিদার হওয়া সমীচীন নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন কেবল বাংলাদেশেই নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় একটি অনুকরণীয় গণআন্দোলন হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ভ্যানচালক, রিকশাচালক, শ্রমজীবী মানুষসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে এই আন্দোলন সফল হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনের গগণ হরকরা গ্যালারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন গ্রিন ফোরাম আয়োজিত ‘চব্বিশের জুলাই: জনআকাঙ্ক্ষা এবং বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে বিভাজন ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের শঙ্কা তৈরি করতে পারে’
উপাচার্য বলেন,
“এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার শিক্ষকতার বয়স ৩১ বছর চলছে। এই তিন দশকের মধ্যে সর্বশেষ ১৭ বছরে আমি তিনবার জীবননাশের হুমকির সম্মুখীন হয়েছি। আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ডরমিটরির প্রায় ১০ থেকে ১৫টি কক্ষ ভাঙচুর করা হয়েছে, শুধু আমি কোথায় আছি তা খুঁজে বের করার জন্য। তখন আমরা জুলাইয়ের যোদ্ধা হিসেবে আবির্ভূত হইনি; আমরা আবির্ভূত হয়েছিলাম ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের মাধ্যমে। তাই জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে বিভাজন তৈরি হলে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের শঙ্কা থেকে যায়।”
বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলার প্রশ্নে কঠোর অবস্থান
বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন,
“কোনো মানুষই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়, সমালোচনারও ঊর্ধ্বে নয়। কাজ করলে সমালোচনা থাকবে। কিন্তু যদি তা বারবার একইভাবে হতে থাকে, তাহলে উদ্দেশ্যটি খুব ভালো বলে প্রমাণিত হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যৌক্তিক দাবি ও আবেদন প্রশাসন অবশ্যই বিবেচনা করবে, তবে দাবির অজুহাতে কোনো বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় আপনাদের সহযোগিতা চাই। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হোক—এটি আমি কখনোই প্রত্যাশা করি না।”
‘জুলাই যোদ্ধাদের কাছ থেকে একটি শুভেচ্ছাও পাইনি’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন জুলাই আন্দোলনের শুরুর দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে বলেন,
“পহেলা জুলাই যখন আন্দোলন তুঙ্গে, তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রথম শিক্ষক হিসেবে আমি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করেছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বিপ্লবের বর্ষপূর্তিতে কোনো জুলাই যোদ্ধা আমাকে সামান্য শুভেচ্ছা পর্যন্ত জানায়নি। শুধু একজন শিক্ষার্থী আমাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। শুনতে খারাপ লাগলেও এটিই বাস্তবতা।”
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও আন্দোলনের মূল লক্ষ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“আমরা চেয়েছিলাম দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে যুক্ত করতে। জুলাই বিপ্লবের বহু আকাঙ্ক্ষার মধ্যে অন্যতম ছিল নির্বিঘ্নে ও নিরপেক্ষভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করা। সেই গণ-আকাঙ্ক্ষা অন্তত বাস্তবায়িত হয়েছে বলে আমি মনে করি।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় গ্রিন ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান।

