নিজস্ব সংবাদদাতা
জামালপুরে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হতে পারেনি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- সরিষাবাড়ী উপজেলার চাপারকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ইসলামপুর উপজেলার কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় এবং বকশীগঞ্জ উপজেলার শেফালী মফিজ মহিলা মাদরাসা। গতকাল সোমবার ১০ আগস্ট সারাদেশের ন্যায় জামালপুরেও একযোগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলে অকৃতকার্যের বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জামালপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো: শামছুল আলম।
ফলাফলে দেখা যায়, ইসলামপুর উপজেলার এমপিওভুক্ত কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী। কিন্তু তিনজনই অকৃতকার্য হয়েছে। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক রয়েছেন ১১ জন। এই বিদ্যালয় থেকে এবারই প্রথম এসএসসি পরীক্ষায় তারা অংশগ্রহণ করেছিলো। একই উপজেলার নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের বীর মাইজবাড়ী দাখিল মাদ্রাসা থেকে এবার দাখিল পরীক্ষায় ১৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে প্রায় ১৩০ জন শিক্ষার্থী ও আটজন শিক্ষক রয়েছেন।
মাদ্রাসাটির সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান বিভাগের জন্য বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় এমন ফলাফল হয়েছে।
এদিকে, সরিষাবাড়ী উপজেলার চাপারকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টিও এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান। এখানে শিক্ষকের সংখ্যা চারজন। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি থেকে ১১ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১১ জনই অকৃতকার্য হয়েছে। অন্যদিকে, বকশীগঞ্জ উপজেলার শেফালী মফিজ মহিলা মাদরাসা থেকে ১৪ জন শিক্ষার্থী সমমান দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ কৃতকার্য হতে পারেনি।
এ বছর জেলায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৫৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে ১৩৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট ২৬ হাজার ৫শ ৪৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। সদ্য প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী জেলায় পাশের হার শতকরা ৫৫.৬০ ভাগ।
জামালপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো: শামছুল আলম বলেন, যে প্রতিষ্ঠান গুলো শতভাগ অকৃতকার্য হয়েছে তার সবগুলো প্রতিষ্ঠানই এমপিওভুক্ত। প্রতিষ্ঠান গুলো সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পরও কেন শতভাগ ফেল আসলো সে বিষয়ে আমরা তাদের কাছে জবাবদিহিতা চাইবো। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আ জ ম রেজাউল করিম খান জানান, যে প্রতিষ্ঠান গুলোর পরিক্ষার্থী শতভাগ পাশ করতে পারেনি তাদের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যাবস্থা নেয়া হবে। এছাড়াও ওই প্রতিষ্ঠান গুলোর এমন অবস্থা থেকে উত্তলনের জন্য সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে।
