চাঁদপুরের বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে অক্সিজেন সিলিন্ডার

চাঁদপুরের বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে অক্সিজেন সিলিন্ডার

চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্রভাবে বিক্রি হচ্ছে অক্সিজেন সিলিন্ডার। এই সমস্ত দোকানের নেই কোন লাইসেন্স নেই কোন সরকারি অনুমোদন। তারপরও এই সমস্ত দোকানগুলো কোন প্রকার নিয়ম-নীতির কুয়াকা না করেই অক্সিজেন সিলিন্ডার যত্রতত্রভাবে বিক্রি করছে।

হাজীগঞ্জ উপজেলার রামচন্দ্রপুর প্রধান সড়কের পাশেই ভাই ভাই গ্যাস এন্টারপ্রাইজ নামক একটি দোকানে অবৈধভাবে মেডিকেল অক্সিজেন সিলিন্ডার বিক্রি করতে দেখা যায়।

উক্ত দোকানে গিয়ে দেখা যায় তারা বিভিন্ন ওয়েল্ডিং ও ঝালাই কাজে ব্যবহৃত যে সমস্ত গ্যাস ব্যবহার করা হয় তার সাথে তিনি মেডিকেল অক্সিজেন সিলিন্ডার বিক্রি করছেন।

এ ব্যাপারে উক্ত দোকান মালিকের সাথে ফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, এখানে বেশ কিছু গ্রাহক রয়েছে যারা ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত। এই সমস্ত মেডিকেল অক্সিজেন বিক্রি করার কোন অনুমোদন আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন এটা আমাদের দোকানের ট্রেড লাইসেন্স করা রয়েছে তবে এই সমস্ত অক্সিজেন বিক্রি করার অনুমোদন লাগে কিনা সেটা আমাদের জানা নেই। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন কুমিল্লা থেকে মেঘনা গ্রুপের একটি গাড়ি এসে প্রতি সপ্তায় আমাদেরকে এই সমস্ত অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে যায়। তিনি আরো জানান এ ব্যাপারে কোন কিছুর প্রয়োজন হলে তারা দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছেন। যেকোনো সমস্যার সমাধান তারাই করবেন। এছাড়া কোন ব্যাপারে জানার থাকলে তাদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে হাজিগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আহমেদ তানভীর হাসান বলেন, এই সমস্ত দোকানে মেডিকেল অক্সিজেন বিক্রি করা হয় এটা আমার জানা ছিল না। তবে যারাই বিক্রি করছে এটা সম্পূর্ণ অবৈধ। কারণ হিসেবে তিনি জানান এই সমস্ত অক্সিজেন বিক্রি করতে হলে একটা অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে। যত্রতত্রভাবে বিক্রি করা যাবে না।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন এই সমস্ত অক্সিজেন সিলিন্ডার যে কেউ নিয়ে ব্যবহার করতে পারবে না। কোথায় কোন রোগীকে কখন অক্সিজেন দিতে হবে সেটা একমাত্র ডাক্তাররাই বলে দিতে পারবে। এছাড়া যে কোনো রোগীকে উক্ত অক্সিজেন ব্যবহার করতে দেয়া যাবে না। এটার একটা পরিমাপ রয়েছে বাচ্চাদের জন্য আলাদা হিসাব এবং বয়স্ক লোকদের জন্য আরেকটি পরিমাপ রয়েছে। কোন ক্ষেত্রে কতটুকু ব্যবহার করবে সেটা আগে ডাক্তারদেরকেই নির্ধারণ করতে হবে।

যে কেউ ইচ্ছা করলেই একটি অক্সিজেন কিনে নিয়ে তা ব্যবহার করতে পারবে না। এতে করে উপকারের পরিবর্তে ঘটে যেতে পারে যে কোন বড় ধরনের দুর্ঘটনা। তাই এ সমস্ত অবৈধভাবে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিক্রি করা থেকে আমাদেরকে বিরত থাকতে হবে।

তিনি আরো বলেন এই সমস্ত অক্সিজেন গুলো বেশিরভাগই কিনে থাকে বিভিন্ন অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভাররা। কারণ তারা যখন রোগী বহন করে তখন তাদের অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। তিনি বলেন আমার মনে হয় তারাই সবচেয়ে বেশি এই সমস্ত লোকাল বিভিন্ন স্থান থেকে অক্সিজেনগুলো কিনে থাকে।

ডাক্তার আহমেদ তানভীর হাসান আরো বলেন, এই সমস্ত মেডিকেল অক্সিজেন গুলোর সিলিন্ডারের গায়ের মধ্যে কোথায় করে লিখা থাকে মেয়াদ উত্তীর্ণ এবং মেয়াদের তারিখ এমনকি যে সিলিন্ডারটি ব্যবহার করা হয় সে সিলিন্ডারের ও একটি সময়সীমা থাকে। সময়সীমার বাহিরে উক্ত সিলিন্ডারটি ব্যবহার করা যাবে না। অক্সিজেন সিলিন্ডারটি মানবদেহে ব্যবহার করতে হলে সেখানে একটি মিটারের প্রয়োজন রয়েছে মিটার ছাড়া কোনভাবেই অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহার করা যাবে না। এই সমস্ত মেডিকেল অক্সিজেন গুলো নিরাপদ কিনা সে ব্যাপারেও আমাদেরকে সচেষ্ট থাকতে হবে।

চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন দোকানেও অবৈধভাবে এই সমস্ত অক্সিজেন সিলিন্ডার বিক্রি করতে দেখা যায়। এছাড়া হাজীগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ওয়েল্ডিং কারখানার দোকানে এ সমস্ত অক্সিজেন সিলিন্ডার বিক্রি করতে দেখা যায়। যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অভিজ্ঞ মহলের ধারণা এ ব্যাপারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যথাযথ ব্যবস্থা নিলে অবৈধভাবে এই সমস্ত অক্সিজেন সিলিন্ডার বিক্রি করা বন্ধ করা সম্ভব।

নিজস্ব প্রতিবেদক/
৩১ জুুলাই ২০২৬

Explore More Districts