চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ ৮ বছর পর আবাসিক হলগুলোতে আসন বরাদ্দের প্রথম মেধাতালিকা প্রকাশিত হয়েছে। আসন খালি থাকলে পরের সপ্তাহে দ্বিতীয় মেধাতালিকা প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, চার সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তা প্রকাশিত হয়নি। ফলে অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক বিভাগের বর্ষ পরীক্ষা শুরু হওয়ায় তাদের হলের বাইরে থেকেই থাকতে হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে দ্বিতীয় মেধাতালিকা প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা জানান, কোনো বিভাগের অধিক শিক্ষার্থী সিট পেয়েছে, আবার কোনো বিভাগের অনেকেই সিট পাননি। এমনকি কেউ কেউ দু’টি হলে আসন পেয়েছেন। ফলে হলের বাইরে থাকতে বাধ্য হওয়ায় অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থীদের হতাশা বেড়েছে।
মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. রিয়াদ বলেন, আমাদের বিভাগের কেউ সিট পায়নি। আমার আর্থিক অবস্থা ভালো নয় এবং বাড়ি অনেক দূরে, তাই খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী আদিবুজ্জামান তিতাস জানান, শুধু ফলাফলের ভিত্তিতে বরাদ্দ না দিয়ে শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা, দূরত্ব, ও সহ-শিক্ষা কার্যক্রমও বিবেচনায় রাখা উচিত ছিল।
তথ্য মতে, ছাত্রী হলগুলোর অধিকাংশ সিট পূর্ণ, নতুন কিছু আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ছাত্র হলগুলোর প্রায় ৩০ শতাংশ আসন খালি। আলাওল ও এ এফ রহমান হলে অর্ধেকের বেশি আসন ফাঁকা, তবে নবনির্মিত বঙ্গবন্ধু হল ও অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হলের কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি।
আইসিটি সেল ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম মেধাতালিকার পর প্রায় ৭০০ অভিযোগ জমা পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগগুলো যাচাই করে দ্বিতীয় মেধাতালিকা প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক সাইদুর রহমান চৌধুরী জানান, অভিযোগ সমাধানে আরও এক সপ্তাহ লাগবে, এরপর দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন জানান, অভিযোগগুলো সমাধান করে শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে আসন বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় মেধাতালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হবে।
এর আগে, গত ৪ অক্টোবর প্রথম মেধাতালিকা প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন অভিযোগ জানান, যার প্রেক্ষিতে প্রশাসন দ্বিতীয় মেধাতালিকা প্রকাশের পরিকল্পনা করেছিল।
এআরই/এমভি/সিটিজিনিউজ

