সমালোচনাকে চ্যালেঞ্জে পরিণত করে সিলেট মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে মাঠে নেমেছেন এসএমপি পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী। অপরাধ দমনে ধারাবাহিক বিশেষ অভিযান, মাদকবিরোধী কঠোর অবস্থান এবং নিয়মিত নজরদারির সুফল মিলতে শুরু করেছে। সর্বশেষ জুন মাসের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চুরি, ডাকাতি ও অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এতে নগরবাসীর মধ্যে নিরাপত্তা ও স্বস্তির অনুভূতি ফিরে আসছে।
দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পরিচয় দিয়ে তিনি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গ্রহণ করেন একাধিক কৌশলগত পরিকল্পনা। মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী, চোর, ছিনতাইকারী, জুয়াড়ি, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধীদের বিরুদ্ধে শুরু হয় ধারাবাহিক বিশেষ অভিযান। থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি, টহল কার্যক্রম এবং বিশেষ চেকপোস্ট জোরদার করায় এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নগরজীবনে।
এসএমপির অপরাধ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত মে মাসের তুলনায় জুন মাসে মহানগরীতে সার্বিক অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জুন মাসে চুরির মামলা হয়েছে মাত্র ৬টি, কোনো ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি, আর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে মাত্র ১টি। সামগ্রিকভাবে জুন মাসে অপরাধ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের মাসের তুলনায় অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণে ছিল।
অপরাধ দমনে অভিযানের তীব্রতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মে মাসে এসএমপির বিভিন্ন অভিযানে ১ হাজার ৬৬৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে নিয়মিত মামলার আসামি ১৯২ জন, ছিনতাইকারী ৪২ জন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ১৯১ জন, মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী ৯৯ জন, মেট্রো অধ্যাদেশে ৯৪৩ জন, চোর-ডাকাত ৫৬ জন, জুয়াড়ি ৫২ জন এবং হকার ৯০ জন ছিলেন।
অন্যদিকে জুন মাসে অভিযান আরও জোরদার হওয়ায় গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৩২২ জনে। এ সময় গ্রেফতার হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন ৭৪৪ জন মাদকসেবী ও মাদক কারবারি, ১৭৬ জন জুয়াড়ি, ২০ জন ছিনতাইকারী, ৩৬ জন চোর-ডাকাত, ২৬ জন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি, ১৮৮ জন হকার, ১৮৯ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, ৭২৫ জন মেট্রো অধ্যাদেশ ও সন্দেহভাজন ব্যক্তি এবং অন্যান্য আইনে ২১৮ জন।
পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি, অপরাধপ্রবণ এলাকায় নিবিড় নজরদারি এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে অপরাধীরা অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। ফলে নগরবাসীর মধ্যেও নিরাপত্তাবোধ বাড়তে শুরু করেছে।
গত ৯ জুলাই আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় এসএমপি পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, “সিলেট মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। সকল অপরাধের মূলেই রয়েছে মাদক। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে আনতে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমরা অবশ্যই মাদকের শিকড় উপড়ে ফেলব।” এ লক্ষ্যে তিনি নাগরিক, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম ও সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
নগরবাসীর অনেকেই মনে করছেন, পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর দৃঢ় নেতৃত্ব, জবাবদিহিমূলক পুলিশিং এবং অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কারণে সিলেট মহানগরীতে ইতোমধ্যেই ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। বিশেষ করে মাদক ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
তবে আইন-শৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে পুলিশের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অপরাধের তথ্য দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ ও জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টাই একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত সিলেট গড়ে তুলতে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
