জুয়া এবং মাদকের টাকা না পেয়ে বেধড়ক মারধর করে হত্যা করা হয়েছে স্ত্রীকে। পরে মৃত স্ত্রীর লাশ ঘরে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় ঘাতক স্বামী। অবশেষে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে। নগরীর বন্দর থানা এলাকায় সংঘটিত এই ঘটনা ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত পপি তালুকদার (২২) চট্টগ্রাম ইপিজেডস্থ ইয়ং ওয়ান গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। তার স্বামী উজ্জ্বল চন্দ্র মিত্র (২৯) একসময় চাকরি করলেও গত বেশ কিছুদিন ধরে সে বেকার এবং দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও জুয়ার সঙ্গে জড়িত। স্ত্রীর কাছ থেকে বিভিন্ন সময় মারধর করে টাকা পয়সা নিয়ে সে জুয়া খেলায় এবং মাদকের পেছনে সব উড়িয়ে আসতো।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ১ মে রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে বন্দর থানাধীন বাসায় স্ত্রী পপির কাছে নেশার জন্য টাকা চান উজ্জ্বল। পপি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উজ্জ্বল ক্ষিপ্ত হয়ে পপিকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। এতে পপি গুরুতর আহত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন।
পরে রাত প্রায় ১২টার দিকে উজ্জ্বল স্থানীয় চিকিৎসক মো. আবুল খায়েরকে বাসায় নিয়ে আসেন উজ্জ্বল। চিকিৎসক পপিকে পরীক্ষা করে তার হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা জানান এবং দ্রুত পপিকে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু উজ্জ্বল পপিকে হাসপাতালে না নিয়ে বাসা থেকে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে উজ্জ্বলের বোন তৃপ্তি ও ভাগিনা সুব্রত সরকার প্রতিবেশীদের সহায়তায় পপিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় বন্দর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সিএমপির বন্দর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আমিরুল ইসলামের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবদুর রহিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ২ মে রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ মাইলের মাথা এলাকা থেকে উজ্জ্বল চন্দ্র মিত্রকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। উজ্জ্বল আদালতে এই ঘটনার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছে।



