গত ১ জুন বিকেলে কৃষ্ণবাটি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ফসলের মাঠের মাঝখানে জাল দিয়ে ঘেরা একটি ছোট আঙুরখেত। পিচের রাস্তা থেকে নেমে মাঠের মাঝ দিয়ে মোটরসাইকেল ও হেঁটে দলে দলে মানুষ ছুটছেন ওই খেতের দিকে।
খেতের সামনে গিয়ে দেখা গেল, অন্তত ৫০টি মোটরসাইকেল সারিবদ্ধভাবে রাখা। খেতের ভেতরে ২০০ থেকে ৩০০ মানুষের ভিড়। কেউ গাছে ঝুলে থাকা আঙুরের থোকা হাতে নিয়ে ছবি তুলছেন, কেউ ওজন করে আঙুর কিনছেন, কেউ চারা সংগ্রহ করতে এসেছেন, আবার কেউ এসেছেন খেতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে। দর্শনার্থীদের জন্য খেতের সামনে আইসক্রিম, পানি ও পাঁপড় ভাজার দোকানও বসেছে।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমার ২৫ শতাংশ জমির আঙুর গাছের বয়স এক বছর। সাত মাসে গাছে ফল ধরে। ১০ মাস বয়স থেকে ফল পাকা শুরু হয়। ফল পাকা শুরু হলে প্রথমদিকে মাত্র দুই দিন বাজারে নিয়ে বিক্রি করেছি। এরপর আর বাজারে নিতে হয়নি। খেত থেকেই ৪০০ টাকা কেজি দরে ৪১ দিনে সব ফল বিক্রি হয়ে গেছে।’
স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে সংসার জাহাঙ্গীরের। বড় মেয়েকে স্নাতক পাস করিয়ে বিয়ে দিয়েছেন। মেজ মেয়ে যশোর সরকারি মহিলা কলেজে স্নাতক ভর্তি হয়েছেন। ছোট ছেলে এ বছর মাধ্যমিক পাস করেছে। পাঁচজনের সংসার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হতো তাঁকে। আঙুর চাষ তাঁকে স্বস্তি দিয়েছে।
এই কৃষক জানান, এক বছর পার না হতেই তিনি ৭ লাখ টাকার আঙুর ও তিন লাখ টাকার চারা বিক্রি করেছেন। খরচ হয়েছে ৩ লাখ টাকার মতো। ৭ লাখ টাকা মতো লাভ হয়েছে। ওই লাভের টাকা দিয়ে বসতবাড়ির ঘর করার কাজে হাত দেবেন। নতুন করে আরও ৪৫ শতক জমিতে আঙুর চাষ বাড়াবেন।
