
ওয়াশিংটন, ২২ আগস্ট – ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না বলে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রয়োজন হলে ইরানের ওপর তিনি আরও অন্তত ১০০ বার হামলা চালাতেন। ট্রাম্পের দাবি, তাঁর দৃঢ় ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণেই আজ ইসরায়েলসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের দেশগুলো ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
এক সাম্প্রতিক রেডিও সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই চাঞ্চল্যকর বক্তব্য দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান যখন পারমাণবিক বোমার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল, ঠিক তখনই তিনি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
ট্রাম্পের সাক্ষাৎকারের মূল বিষয়গুলো:
জরুরি সামরিক পদক্ষেপ: ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির মাত্র দুই সপ্তাহের দূরত্বের মধ্যে পৌঁছালে তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়।
হামলার প্রভাব: যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক পদক্ষেপের ফলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং দুর্বল হয়ে পড়েছে।
অর্থনৈতিক সংকট: টানা সামরিক চাপ ও আন্তর্জাতিক অবরোধের মুখে ইরানের অর্থনীতি এখন পুরোপুরি ধসে পড়ার দ্বারপ্রান্তে।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ: গণমাধ্যমে বিপরীতমুখী খবর প্রকাশিত হলেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই রয়েছে।
‘মধ্যপ্রাচ্যের দাদাগিরি বন্ধের’ দাবি
তেহরানকে ‘মধ্যপ্রাচ্যে দাদাগিরি করা রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ট্রাম্প বলেন, আঞ্চলিক শান্তির ক্ষেত্রে ইরান সবসময়ই বড় বাধা। কাতার, বাহরাইন, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো যেসকল দেশ ইরানকে সামান্যতম সমর্থনও করত না, তাদের ওপরও তেহরান বারবার হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সময়মতো সামরিক পদক্ষেপে না যেত, তবে ইরান পুরো অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোকে নিশ্চিহ্ন করে দিত এবং সরাসরি মার্কিন ভূখণ্ডেও হামলা চালানোর চূড়ান্ত পরিকল্পনা গুটিয়ে আনছিল। তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের বিষয়ে ইরান বা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
এনএন/ ২২ আগস্ট ২০২৬



