উদ্বোধনের দুই বছর পেড়িয়ে গেলেও চালু হয়নি ঝালকাঠির ২৫০ শয্যার হাসপাতাল

উদ্বোধনের দুই বছর পেড়িয়ে গেলেও চালু হয়নি ঝালকাঠির ২৫০ শয্যার হাসপাতাল

২০ April ২০২৬ Monday ৬:২৪:১৮ PM

Print this E-mail this


ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

উদ্বোধনের দুই বছর পেড়িয়ে গেলেও চালু হয়নি ঝালকাঠির ২৫০ শয্যার হাসপাতাল

উদ্বোধনের দুই বছর পেড়িয়ে গেলেও চালু হয়নি ঝালকাঠির ২৫০ শয্যার হাসপাতাল। আট বছর ধরে চলছে ৭০ কোটি টাকার এই হাসপাতালটির অবকাঠামোর কাজ। ফলে রোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন আধুনিক চিকিৎসা সেবা থেকে। বিশেষ করে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৩ সালে স্থাপিত হয় ৫০ শয্যার ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল। পরে ২০০৩ সালে এটি ১০০ শয্যায় উন্নীত হয়। ২০১৮ সালে প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নতুন ৯ তলা ভবনের নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। কিন্তু দেড় বছরেও প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও প্রায় ৮ বছর ধরে এখনও তা চলছে। কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পের মেয়াদ।

নির্মাণ কাজ শেষ না হলেও তড়িঘড়ি করে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে নতুন এ ভবনটি উদ্বোধন হয়েছিলো। কিন্তু নানা সংকট দেখিয়ে শুরু হয়নি কার্যক্রম। ফলে চিকিৎসা সেবায় কোনো ভোগান্তির শেষ হয়নি দক্ষিণের এ জেলায়। আধুনিক যন্ত্রপাতি, চিকিৎসক ও শয্যা সংকটে জটিল রোগ ছাড়াও সাধারণ চিকিৎসাও জেলাবাসীকে বিভাগীয় শহর বরিশালে কিংবা জেলা শহরের প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে। কিন্তু নিম্ন আয়ের রোগীরা এতে পড়েছেন চরম বিপাকে।

চিকিৎসা নিতে আসা সদর উপজেলার পোনাবালিয়া গ্রামের মরজিনা বেগম বলেন, ‘মোরা তো গরীব মানুষ। হাসপাতালে আইছি ডাক্তার দেহাইতে, টেস্ট দেছে। কিন্তু এহানে কোনো টেস্ট অয় না। বাইরে টেস্ট করতে টাহা লাগবে, হেয়া পামু কই?’

শহরের চাঁদকাঠি এলাকার যুবক আব্দুর রহিম বলেন, ‘৭-৮ বছর ধরেই দেখছি হাসপাতালটি নির্মাণ হচ্ছে। এত বছর ধরে একটি হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শেষ হবে না- এটা বিস্ময়কর ব্যাপার।’

সদর হাসপাতালে আসা রোগীর স্বজন পলাশ হাওলাদার বলেন, ‘সাধারণ জ্বর-কাশি বা গ্যাস্টিক ছাড়া এখানে আর কোনো চিকিৎসাই হয় না। সচ্ছল রোগীরা বরিশাল কিংবা স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা করতে পারেন। কিন্তু দরিদ্র মানুষ আধুনিক চিকিৎসার অভাবে ভুগছেন বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে ঝালকাঠি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ূণ কবীর বলেন, ‘নতুন ভবনের লিফট স্থাপনসহ আরও কিছু যান্ত্রিক কাজ বাকি রয়েছে। সেগুলো শেষ করে আগামী নভেম্বর মাসের দিকে ২৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু করা যাবে বলে আশা করছি।’

প্রসঙ্গত, ঝালকাঠি জেলায় আট লাখ মানুষের বসবাস। বর্তমানে চালু থাকা ১০০ শয্যার সদর হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন ৫ শতাধিক মানুষ।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts