ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার ঢল – বরিশাল লঞ্চঘাট

ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার ঢল – বরিশাল লঞ্চঘাট

৩১ May ২০২৬ Sunday ১০:২৬:৫৪ PM

Print this E-mail this


ই. এইচ সুজন:

ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার ঢল – বরিশাল লঞ্চঘাট

পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ সাত দিনের ছুটি শেষে আবারও কর্মব্যস্ত জীবনে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে জীবিকার তাগিদে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন হাজারো মানুষ। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার বরিশাল নৌ-বন্দরের লঞ্চঘাটে দেখা গেছে ঘরমুখো মানুষের বিপরীত চিত্র—এবার কর্মমুখী মানুষের ভিড়।
সকাল থেকেই বরিশাল লঞ্চঘাটে যাত্রীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। আগামীকাল সোমবার থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন কর্মক্ষেত্র খুলে যাওয়ায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ। ব্যাগ-সুটকেস হাতে পরিবার-পরিজনের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে অনেকে লঞ্চে উঠতে দেখা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজ বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে আটটি বিলাসবহুল যাত্রীবাহী লঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছে। এগুলো হলো— এমভি এম খান-৭, পারাবত-১১, পারাবত-১২, সুন্দরবন-১৫, সুন্দরবন-১৬, প্রিন্স আওলাদ-১০, এমভি মানামী এবং শুভরাজ-৯। এসব লঞ্চে যাত্রীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো লিফট ব্যবস্থা, ভিআইপি ও সেমি-ভিআইপি কেবিন, এসি ও নন-এসি কেবিন, সোফা সিটিং ব্যবস্থা এবং ডেক সার্ভিস। ফলে যাত্রীরা তুলনামূলক আরামদায়ক ও নিরাপদ ভ্রমণের সুবিধা পাচ্ছেন।

এক সময় বরিশাল অঞ্চলের মানুষের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম ছিল নৌপথ। বিশেষ করে ঈদ ও অন্যান্য উৎসবকে কেন্দ্র করে লঞ্চঘাটে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যেত। তবে পদ্মা সেতু চালুর পর সড়কপথে যাতায়াত বৃদ্ধি পাওয়ায় ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে যাত্রীর চাপ অনেকটাই কমে গেছে। ফলে একাধিক লঞ্চ বন্ধ হয়ে গেছে, কিছু লঞ্চ স্ক্র্যাপ করা হয়েছে এবং কয়েকটি রুটে লঞ্চ চলাচল অনিয়মিত হয়ে পড়েছে।

তবে ঈদের সময় এখনো কিছুটা হলেও পুরনো দিনের চিত্র ফিরে আসে। যাত্রীদের উপস্থিতি দেখে সহজেই অনুমান করা যায়, এক সময় দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় লঞ্চের কতটা আধিপত্য ছিল।
লঞ্চের একাধিক যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা এখনো নৌপথে ভ্রমণকে সবচেয়ে আরামদায়ক মনে করেন। তাদের মতে, লঞ্চ যাত্রায় যানজটের ঝামেলা নেই, ভাড়াও তুলনামূলক কম এবং পরিবেশও অনেক শান্ত। যদিও সময় কিছুটা বেশি লাগে, তারপরও আরাম ও স্বস্তির কারণে তারা নৌপথকেই প্রাধান্য দেন।
যাত্রীদের ভাষায়, “লঞ্চে ভ্রমণ করলে ক্লান্তি কম হয়। যানজটের ভোগান্তি নেই, নিরিবিলি পরিবেশে নিশ্চিন্তে যাত্রা করা যায়। তাই সুযোগ পেলেই আমরা লঞ্চে যাতায়াত করি।”
ঈদের আনন্দ শেষে আবারও কর্মব্যস্ত জীবনে ফেরার এই যাত্রায় বরিশাল লঞ্চঘাট যেন হয়ে উঠেছে মানুষের আশা, স্বপ্ন ও জীবিকার নতুন অভিযাত্রার প্রতীক।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts