ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র–সক্ষমতা ধ্বংসের দাবি করছে যুক্তরাষ্ট্র, তাহলে তারা এখনো কীভাবে হামলা চালাচ্ছে

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র–সক্ষমতা ধ্বংসের দাবি করছে যুক্তরাষ্ট্র, তাহলে তারা এখনো কীভাবে হামলা চালাচ্ছে

ইরান দীর্ঘদিন ধরে সস্তা, কিন্তু কার্যকর ড্রোন তৈরির অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। শাহেদ ১৩৬ ড্রোন সাধারণ কারখানায় দ্রুত সময়ের মধ্যে অনেকগুলো তৈরি করে ফেলা যায়। তা ছাড়া এ ধরনের ড্রোন একসঙ্গে অনেকগুলো ছোড়া যায় এবং এর মধ্য দিয়ে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করা যায়।

শাহেদ ১৩৬ ড্রোনের জন্য জটিল উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার প্রয়োজন হয় না। এ ড্রোনের গতি ঘণ্টায় মাত্র ১৮৫ কিলোমিটার হওয়ায় হেলিকপ্টার দিয়ে এটিকে ধ্বংস করা সম্ভব। এরপরও অনেক ড্রোন ইসরায়েল, মার্কিন অবকাঠামো ও উপসাগরীয় দেশের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পার হতে পেরেছে।

গতকালই সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি ড্রোন হামলায় আগুন লেগে ফ্লাইট সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। আরেকটি ড্রোন হামলায় ফুজাইরাহ শিল্প এলাকায় আগুন লেগেছে। এটিও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে। এ ছাড়া ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অংশে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পূর্বাভাস দিয়ে সাইরেন বাজানো হয়েছে।

বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালিতে শত শত জাহাজ হামলার আশঙ্কায় স্থবির হয়ে আছে, যদিও জাহাজের ওপর হামলা খুব কম হয়েছে। যুদ্ধের শুরু থেকে একটি মেরিটাইম ট্র্যাকার ২০টি জাহাজসংক্রান্ত ঘটনা নথিভুক্ত করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ইরানের অসামঞ্জস্যপূর্ণ যুদ্ধের কৌশলের একটি অংশ। যেহেতু ইরান সামরিকভাবে দুর্বল, তাই তারা অপ্রচলিত পদ্ধতিতে শত্রুর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে অর্থনৈতিক ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।

তেহরান ইতিমধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। বিশ্ববাজারে আতঙ্ক তৈরি করেছে তারা। কাতার তার গ্যাস উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি চালান পাঠানো বন্ধ করেছে এবং ইরাকের দক্ষিণের বড় তেলক্ষেত্রে উৎপাদন ৭০ শতাংশ কমেছে।

জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভালি নাসর মনে করেন, ইরান যদি তেলের মূল্য আরও বৃদ্ধি করাতে পারে, তাহলে এটি ইরানে মার্কিন বোমা হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির সমান বা তার চেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হবে যুক্তরাষ্ট্র।

Explore More Districts